নাগরিক সচেতনতায় ‘সিটি ইন্সপেক্টর’ নামাচ্ছে ডিএসসিসি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২:৪৮ পূর্বাহ্ন, ০৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’ নামে নতুন উদ্যোগ চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এ লক্ষ্যে রাজধানীর মতিঝিল এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) নগর ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ‘নিজে বদলাই, ঢাকা বদলাবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পরিচালিত এই প্রকল্প আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসব্যাপী চলবে।

আরও পড়ুন: সবুজবাগে অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, ‘আছি বাংলাদেশ’ (American Affordable Community Healthcare Initiative)-এর অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের আওতায় মতিঝিল এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন, বায়ুদূষণ হ্রাস, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যকর নগর পরিবেশ গড়ে তুলতে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নয়; এর জন্য নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন। তিনি বলেন, “প্রতিটি বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিষ্কার থাকলে পুরো নগরই বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। মতিঝিলে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য ওয়ার্ডের জন্যও অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে।”

আরও পড়ুন: ঢাবি ক্যাম্পাসে ডিএসসিসির ৫০০ গাছের চারা রোপণ, সবুজ নগর গড়ার আহ্বান

তিনি আরও জানান, সিটি ইন্সপেক্টরদের মূল দায়িত্ব হবে নাগরিকদের সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়তা করা। পাশাপাশি ডেঙ্গু, বায়ুদূষণ, ধুলাবালি ও জলাবদ্ধতা কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রকল্পের আওতায় মতিঝিল এলাকাকে ১০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিটি ইন্সপেক্টররা বাড়ি, দোকান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তারা লিফলেট বিতরণ, এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের কাজ করবেন।

এ ছাড়া নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলছেন কি না, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখছেন কি না—এসব বিষয়ে তদারকি ও জরিপ পরিচালনা করা হবে। দায়িত্বশীল ও দায়িত্বহীন আচরণ মূল্যায়নের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হবে।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, মতিঝিলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য ওয়ার্ডেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে ‘আছি বাংলাদেশ’-এর প্রতিনিধিরা, সিটি ইন্সপেক্টররা, ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।