কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তায় হস্তক্ষেপ জনগণ মেনে নেবে না: কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১১:০৮ অপরাহ্ন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৮ অপরাহ্ন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তা ও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের যেকোনো অপচেষ্টা জনগণ কখনোই মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ। সম্প্রতি কয়েকটি রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণায় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা সিলেবাস পরিমার্জনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা), মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী এবং যুগ্ম মহাসচিব মুফতি দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ এ প্রতিবাদ জানান।

আরও পড়ুন: ‎ছাত্রদলে যোগ দেওয়া ভিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান ’শিবির সমর্থিত জিএস-এজিএস'

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, কওমি মাদ্রাসা উপমহাদেশের একটি স্বতন্ত্র ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ শিক্ষাধারার মাধ্যমে যোগ্য আলেম, মুহাদ্দিস, ফকিহ ও দ্বীনি দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছে। কওমি শিক্ষাব্যবস্থার রয়েছে নিজস্ব নীতিমালা, পাঠ্যক্রম, শিক্ষাদর্শ ও স্বকীয়তা, যা কোনো রাজনৈতিক দল বা কওমি শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়—এমন কোনো মহলের হস্তক্ষেপে পরিবর্তনযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তা ও শিক্ষা কারিকুলামের বিষয়টি সংসদ কর্তৃক মীমাংসিত এবং আইনসিদ্ধ। ২০১৮ সালের ৪৮ নম্বর আইন অনুযায়ী কওমি মাদ্রাসা একটি স্বতন্ত্র শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেছে। ওই আইনে কওমি মাদ্রাসার সংজ্ঞা ও স্বকীয়তার মৌলিক বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন: পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ঢাবি ভিসি

নেতারা অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিভিন্ন সময়ে কওমি মাদ্রাসাকে “কলিজার টুকরা” বলে আখ্যায়িত করলেও তার দলের নির্বাচনী ইশতেহারে কওমি শিক্ষাব্যবস্থার পরিমার্জনের কথা উল্লেখ করে দ্বিচারিতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা বলেন, এ ধরনের বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার গভীর অভিসন্ধিরই বহিঃপ্রকাশ।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তার মূল ভিত্তি হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত ও দারুল উলুম দেওবন্দের আদর্শ অনুসরণ, ঈমান-তাকওয়ার উপর অবিচল থাকা, চার মাযহাবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে হানাফি মাযহাব অনুসরণ, চার ত্বরীকা ও অন্যান্য হকপন্থি ধারার প্রতি উদার দৃষ্টিভঙ্গি এবং আকাবিরে দেওবন্দের চিন্তা-চেতনার অনুসরণ।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ মনে করে, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে আইনে স্বীকৃত এসব মৌলিক বিষয়ের পরিমার্জন করা হলে তা কওমি শিক্ষাব্যবস্থার অস্তিত্বের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে। এ কারণে তারা পরিমার্জনের নামে যেকোনো অযাচিত হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কওমি মাদ্রাসায় কোনো সংস্কারের প্রয়োজন হলে তা কেবল কওমি আলেম, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডসমূহের মাধ্যমেই হতে পারে। যারা কওমি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত নন বা দেওবন্দি আকিদার অনুসারী নন, তাদের এ বিষয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার নেই।

শেষে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ জানায়, কওমি মাদ্রাসাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং এ শিক্ষাব্যবস্থার স্বকীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কওমি অঙ্গন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ গড়ে তুলবে।