জাতীয় নির্বাচন ঘিরে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও নিরপেক্ষ প্রশাসনের আহ্বান
মোবাইল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ইসির কাছে ডাকসুর চার দাবি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েন, সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ডাকসু নেতারা।
আরও পড়ুন: ঢাবির কবি জসীম উদদীন হলের প্রধান তোরণ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন ভিসি
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ভোটারদের স্বাভাবিক চলাচল ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারকে সীমিত করছে। তাই এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করে ভোটার ও সংশ্লিষ্টদের যৌক্তিক মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
ডাকসু নেতারা বলেন, এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করা হবে এবং এ বিষয়ে খুব দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
আরও পড়ুন: গণ বিশ্ববিদ্যালয়: ভিপির ছাত্রদলে যোগদান, ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান গকসুর
ডাকসুর প্রতিনিধি সাদিক কায়েম বলেন, দ্বিতীয় দাবিতে ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েন না করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএনসিসি একটি সুসংগঠিত ও প্রশিক্ষিত বাহিনী হিসেবে পূর্বে ডাকসু নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে পেশাদার ভূমিকা পালন করেছে। তাই ভোটের পরিবেশ নিরাপদ ও শৃঙ্খলিত রাখতে তাদের মোতায়েন জরুরি।
তিনি আরও বলেন, তৃতীয় দাবিতে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, এমনকি নারী প্রার্থীরাও হামলার শিকার হচ্ছেন—যা গণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।
ডাকসু নেতারা জানান, চতুর্থ দাবিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রেখে ভোটগ্রহণ পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে জনগণ নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন বা বিতর্কের অবকাশ না থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন উপহার দেবে।





