‘এটি আমার দ্বিতীয় জন্ম’, ১০ মাস পর শুটিংয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি

Any Akter
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০০ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১:০০ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মস্তিষ্কে টিউমার, অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি ও লাইফ সাপোর্ট—দীর্ঘ ১০ মাস ধরে কঠিন চিকিৎসার মধ্য দিয়ে গেছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। চিকিৎসকদের কাছ থেকে সীমিত আয়ুর আশঙ্কার কথাও শুনতে হয়েছিল তাঁকে। তবে সেই কঠিন সময় পেরিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগোচ্ছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ বিরতি শেষে সম্প্রতি আবারও শুটিংয়ে ফিরেছেন তিনি। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতাকে নিজের ‘দ্বিতীয় জন্ম’ বলে উল্লেখ করেছেন তানিয়া।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অসুস্থতা, চিকিৎসা ও কাজে ফেরার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন তিনি। তানিয়া জানান, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আগের তুলনায় তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। প্রায় ১০ মাস পর স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া, হালকা ব্যায়াম ও হাসিখুশি সময় কাটাতে পারছেন।

আরও পড়ুন: সত্যিই কি ‘গুলশানের চামেলি’ ছাড়ছেন মধুমিতা?

অস্ত্রোপচারের পর মাথার ডান পাশের জটিলতার কারণে বাঁ দিকে কাত হয়ে শুতে পারতেন না তিনি। পাশাপাশি ছিল শারীরিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও নিয়মিত বমির সমস্যা। রেডিওথেরাপির কঠিন ধাপ পার হওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন বলে জানান অভিনেত্রী।

দীর্ঘ বিরতির পর ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে শুটিংয়ে ফিরেছেন তানিয়া। নাটকটিতে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। গল্পে বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে চাচার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তাঁর চরিত্রটি।

আরও পড়ুন: ১৫ মিনিটেরও কম সময়ে বিয়ে করেছিলেন হিনা খান

তানিয়া জানান, দীর্ঘদিন কাজের বাইরে থাকায় শুটিং পরিবেশকে খুব মনে পড়ত তাঁর। সহকর্মীদের পরিবারের সদস্যের মতো মনে করেন তিনি। প্রথম দিনের শুটিংয়ে পরিচালক, ক্যামেরাম্যান ও প্রযোজনা দলের সদস্যরা তাঁর শারীরিক অবস্থার প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন।

তবে এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নন এই অভিনেত্রী। তাঁর কেমোথেরাপির আরও দুই মাস বাকি রয়েছে। চিকিৎসকেরা শুরুতে শুটিংয়ে ফেরার অনুমতি দিতে চাননি। কেমোথেরাপি চলাকালে কাজ করলে শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল তাঁদের। তবে ঘরে বসে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন জানিয়ে অনুরোধ করার পর একটি নাটকে কাজের অনুমতি পান তিনি।

কেমোথেরাপি শেষ হলে এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে টিউমারের বর্তমান অবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করবেন চিকিৎসকেরা।

তানিয়া বৃষ্টির অসুস্থতার শুরু গত বছরের ডিসেম্বরে। একটি নাটকের শুটিংয়ের সময় তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় তাঁর। টানা চার দিন ব্যথা নিয়েই কাজ চালিয়ে যান। পঞ্চম দিনে প্রচণ্ড বমি শুরু হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন পরীক্ষায় মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে।

শুরুতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার আশা থাকলেও ভারতের চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালের একজন অনকোলজিস্ট তাঁকে জানান, তাঁর আয়ু হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। এ কথা শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে বিদায়ের মতো করে কথা বলেছিলেন তানিয়া। পরে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়। জ্ঞান ফেরার পর আইসিইউর পরিবেশ দেখে আতঙ্কিত হলেও পাশে মা ও বোনকে পেয়ে সাহস ফিরে পান বলে জানান তিনি।

অসুস্থতার পুরো সময়ে মায়ের সেবা ও পরিবারের প্রার্থনা তাঁকে সাহস জুগিয়েছে। এ ছাড়া সহকর্মী মোশাররফ করিম, নিলয় এবং প্রযোজক আলী বশীরসহ নাট্যাঙ্গনের অনেকেই নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন।

অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মৃত্যু নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কথাও উল্লেখ করেন তানিয়া। এখন জীবনকে ইতিবাচকভাবে দেখতে চান তিনি। ২০১২ সালে ভালোবাসা থেকেই অভিনয় শুরু করেছিলেন। এবারও একই আগ্রহ নিয়ে নতুন করে ক্যারিয়ার গুছিয়ে নিতে চান এই অভিনেত্রী।

ক্যানসার ও জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে তানিয়ার পরামর্শ, রোগের নাম শুনে মনোবল হারানো উচিত নয়। মানসিক দৃঢ়তা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানো কঠিন সময় মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।