বরের পরিচয় আড়াল করতে পারশার অভিনব কৌশল

Shahrier Islam Pallab
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ন, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩৩ অপরাহ্ন, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ বাংলাবাজার কোলাজ
ছবিঃ বাংলাবাজার কোলাজ

সংগীতজগতে পরিচিত মুখ পারশা মাহজাবিন। গান লেখা, সুর করা ও কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি অভিনয়েও কাজ করেছেন তিনি। এবার ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর খবর দিয়ে ভক্তদের চমকে দিলেন এই শিল্পী। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন তিনি। তবে বিয়ের ছবি প্রকাশ করলেও স্বামীর পরিচয় সামনে আনতে নারাজ পারশা।   

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন গায়িকা। ছবিতে বরের পাশে দেখা গেলেও ফুল দিয়ে তার মুখ ঢেকে রেখেছেন তিনি। একই সঙ্গে স্বামীর পরিচয় জানার আগ্রহ থেকে তাকে কিংবা তার পরিবারের সদস্যদের বিব্রত না করার অনুরোধ জানিয়েছেন পারশা।

আরও পড়ুন: নিউইয়র্কের পর এবার ফ্লোরিডার মঞ্চে গাইবেন অপূর্ব

বিয়ের খবর নিশ্চিত করে এই শিল্পী জানান, গত ২৬ অক্টোবর দেশের বাইরে তাদের আক্‌দ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভিসাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি পারশার পরিবারের সদস্যরা। বরের পরিবারের সদস্যরা অবশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বিয়ের বাকি আয়োজন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

স্বামীর পরিচয় গোপন রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে পারশা বলেন, তার নাম প্রকাশ করলে অনেকেই তাকে চিনে ফেলবেন। তাই আপাতত পরিচয় সামনে আনতে চান না তিনি। ছবিতে ফুল দিয়ে মুখ ঢেকে রাখার সিদ্ধান্তও এ কারণেই। একে অপরকে ‘প্রিয়’ বলে সম্বোধন করেন বলেও জানিয়েছেন এই গায়িকা।

আরও পড়ুন: সদস্যপদ স্থগিত নিয়ে মুখ খুললেন তানজিন তিশা

তবে বরের মুখ আড়াল করার বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্য দিয়ে নারী-পুরুষের মুখ ঢাকা নিয়ে সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির দিকেও প্রশ্ন তুলেছেন পারশা। তার মতে, বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতিতে বিয়ের সময় কনের মুখ ঘোমটা বা বিশেষ আবরণে ঢেকে রাখা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু বরের মুখ আড়াল করা হলে তা নিয়ে তৈরি হয় নানা কৌতূহল।

এ প্রসঙ্গে পারশা বলেন, ইহুদি, খ্রিস্টান, হিন্দু ও মুসলিম বিয়ের বিভিন্ন রীতিতে কনের মুখ ঢেকে রাখার প্রচলন রয়েছে। যুগ যুগ ধরে নারীর মুখ ঢাকা থাকাকে ঐতিহ্য হিসেবে দেখা হলেও পুরুষের ক্ষেত্রে একই বিষয় কেন এত আলোচনার জন্ম দেয়, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিয়েটি দুজনের হলেও মুখ কার ঢাকা থাকল, তাতে সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হয় না বলেও মন্তব্য করেন এই শিল্পী।

নারীর পোশাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন পারশা। তার মতে, কেউ নিজের ইচ্ছায় পর্দা করলে সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করলে আপত্তির জায়গা তৈরি হয়। নারীর পোশাক কিংবা সৌন্দর্যকে পুরুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার প্রচলিত ধারণারও সমালোচনা করেছেন তিনি। পারশার ভাষায়, এক দিনের জন্য প্রচলিত দৃশ্যটি উল্টে দেওয়াতেই যদি এত অস্বস্তি তৈরি হয়, তাহলে সমস্যাটি ছবিতে নয়, বরং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে।

এদিকে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন পারশা। তার কাছে নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও নির্ভরতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ তার বাবা। শৈশব থেকেই বাবার স্নেহ ও যত্নে বড় হয়েছেন তিনি। তাই জীবনসঙ্গীর কাছেও এমন ভালোবাসা ও নির্ভরতা প্রত্যাশা করেছেন এই সংগীতশিল্পী।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ‘চলো ভুলে যাই’ গান গেয়ে আলোচনায় আসেন পারশা মাহজাবিন। সংগীতচর্চার পাশাপাশি অভিনয়েও কাজ করেছেন তিনি। এবার বিয়ের খবর প্রকাশ করে নতুন করে আলোচনায় এলেও জীবনসঙ্গীর পরিচয় প্রকাশের বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন এই শিল্পী।