বাড়ছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ: ঝুঁকিতে লক্ষাধিক মানুষ
চলতি বছর জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মশাবাহিত আরেক রোগ চিকুনগুনিয়া। প্রতিদিন জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন শিশু, নারীসহ সব বয়সের মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগেরই জ্বর, খিঁচুনি, রক্তক্ষরণ, পাতলা পায়খানা ও তীব্র মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৭ হাজার ৯৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৬ হাজার ৫৫৭ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবে দুর্ভাগ্যবশত ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, মোট মৃত ৯৯৭
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া উভয়ই মারাত্মক আকার ধারণ করছে। যেকোনো জ্বরের সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকার মতো রোগগুলো এডিস মশার মাধ্যমেই ছড়ায়। তাই এই মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই রোগগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৯৮
অধ্যাপক বাশার আরও বলেন, শুধু সরকারের পক্ষে একা এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছে, পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু এখন সারা বছরই হচ্ছে, তবে বর্ষা শুরু হলে এর প্রকোপ বাড়ে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।





