গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা, নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়াল
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজারের বেশি ছুঁয়েছে, যা ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে দীর্ঘায়িত যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: আফগান নাগরিকদের জন্য ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০,১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, আর ১,৭০,৯০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।
এই ভয়াবহ মৃত্যুহার এমন সময় সামনে এলো যখন গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় করা যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী বারবার তা লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কায় বন্যায় নিহত ১৩২, দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ড্রোন হামলায় দুই শিশুর মৃত্যু
দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বানি সুওহেলায় ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়। আল-ফারাবি স্কুলের পাশের এলাকায় বেসামরিক লোকজনের ওপর ড্রোন থেকে বোমা নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি বাহিনী—সেখানে নিহত হয় দুই ভাই, জুমা ও ফাদি তামর আবু আসি।
দুজনকেই গুরুতর আহত অবস্থায় নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে পরে তারা মারা যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলাটি সংঘটিত হয়েছে তথাকথিত ইয়েলো লাইন–এর বাইরে—এটি সেই সীমানা, যা যুদ্ধবিরতির অধীনে ইসরায়েলি বাহিনীর পুনর্বিন্যাসকৃত কার্যক্রমের সীমা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল।
স্থল, নৌ ও আকাশ—সর্বদিক থেকে হামলা
গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েল স্থল, নৌ এবং বিমান হামলা চালায়। আল-কারারা শহরে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়। এছাড়া গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলীয় তুফাহ এলাকা এবং দক্ষিণে রাফাহ শহরের পূর্বাঞ্চলেও নতুন করে হামলা হয়।
এর আগের দিন বানি সুওহেলায় ইয়েলো লাইনের বাইরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরেক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনাও নিশ্চিত করে নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ৫৩৫ বার
গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা শুক্রবার জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ৫৩৫টি লঙ্ঘন নথিভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গাজার মানবিক পরিস্থিতি নজিরবিহীনভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইসরায়েলি আগ্রাসন আমাদের অবকাঠামো ও মৌলিক সেবা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।
গাজার বিভিন্ন অংশে খাদ্য, চিকিৎসা, পানি ও আশ্রয়ের ঘাটতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পরিস্থিতিকে “মানবিক বিপর্যয়” হিসেবে বিবেচনা করছে।





