যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরানে ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর স্থগিত

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪১ অপরাহ্ন, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর আপাতত স্থগিত করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর চাপের মুখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের চাপের মুখে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৮০০ ইরানি বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর স্থগিত করেছে তেহরান। বুধবার (স্থানীয় সময়) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট।

আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১০ ফিলিস্তিনি নিহত

ব্রিফিংয়ে ক্যারোলিন লিভিট বলেন, “আমাদের প্রেসিডেন্টের কাছে তথ্য এসেছে যে, ইরান ৮০০ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা স্থগিত করেছে। আজই (বুধবার) তাদের ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল।”

তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর কূটনৈতিক চাপের কারণেই ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরানে হামলা স্থগিত, ট্রাম্পকে সময় নিতে অনুরোধ নেতানিয়াহুর

গত প্রায় ২০ দিন ধরে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর গত ৪৭ বছরে এমন ব্যাপক ও তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়েনি তেহরান।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলনের মূল কারণ ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি। দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি মুদ্রা রিয়াল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল লেনদেন হচ্ছে।

জাতীয় মুদ্রার এই ভয়াবহ পতনের কারণে দেশজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই চরম মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমসিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই দেশব্যাপী বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।

এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। দিন যত গড়িয়েছে, বিক্ষোভ ততই তীব্র হয়েছে। বর্তমানে অনেক এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে আন্দোলনের শুরু থেকেই ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে আপাতত ইরানে সরাসরি মার্কিন হামলার সম্ভাবনা কমে এসেছে।