ঢাকার অজানা ঐতিহ্য: মীর জুমলা গেটের ইতিহাস ও বর্তমান

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৬:৪০ পূর্বাহ্ন, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা শহরের ব্যস্ততার ভিড়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ছুটে চলে। কোলাহল, যানজট আর উঁচু দালানের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক ঐতিহ্য। অথচ এই শহরের বুকেই এখনো দাঁড়িয়ে আছে মুঘল আমলের এক বিস্মৃতপ্রায় নিদর্শন  মীর জুমলা গেট। ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে চোখে পড়বে মুঘল আমলের অসংখ্য নিদর্শন। লালবাগ কেল্লা, হোসেনি দালান কিংবা আর্মেনিয়ান চার্চের মতো বিখ্যাত স্থাপনার নাম আমরা প্রায়ই শুনি। কিন্তু এর বাইরে শহরের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে কিছু অজানা-অচেনা ঐতিহ্য, যেগুলো এখনো ঢাকা শহরের অতীতকে জীবন্ত করে রাখে।

মীর জুমলা ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সেনাপতি ও সুবেদার। তিনি বাংলার শাসনভার গ্রহণ করেন ১৬৬০ সালের দিকে। দূরদর্শী ও কৌশলী প্রশাসক হিসেবে পরিচিত মীর জুমলা বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর সময়েই ঢাকাকে কেন্দ্র করে মুঘল শক্তি আরও সুসংহত হয়।

আরও পড়ুন: নীরবে ক্ষতি করে কিডনি রোগ, সচেতনতা ও জীবনযাপনের পরিবর্তনেই প্রতিরোধ

ঐতিহাসিক সূত্র বলছে, ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথে প্রবেশ ও নিরাপত্তার জন্য সে সময় একাধিক গেট নির্মিত হয়। এর মধ্যে মীর জুমলার নামে পরিচিত এই গেটটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। লাল ইট ও চুন-সুরকির মিশ্রণে নির্মিত গেটটির স্থাপত্যে মুঘল আমলের ঐতিহ্যিক ছাপ স্পষ্ট। খিলানাকৃতি প্রবেশপথ, সুদৃশ্য কারুকাজ আর মজবুত কাঠামো একসময়ে এর মহিমা প্রকাশ করত।

এ গেট শুধু প্রবেশপথ ছিল না, বরং প্রশাসনিক ও সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবেই নির্মিত হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা পণ্য আনা-নেওয়া করত এ পথ দিয়ে। আবার রাজকীয় নির্দেশ ও কর সংগ্রহের কেন্দ্র হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হত। বলা হয়ে থাকে, মীর জুমলা নিজেই গেটটির তদারকি করেছিলেন।

আরও পড়ুন: বুকের ব্যথাটা গ্যাসের নাকি হার্টের, কীভাবে বুঝবেন

দুঃখজনক হলেও সত্যি, এখন মীর জুমলা গেট অনেকটাই বিস্মৃতপ্রায়। আশপাশে আধুনিক স্থাপনা ও নগরায়নের ভিড়ে গেটটি হারিয়ে যাচ্ছে। সংরক্ষণের অভাবে এর বেশ কিছু অংশ ক্ষয়ে গেছে। স্থানীয়দের অনেকেই জানেন না যে তাঁদের আশপাশেই একসময়ের মুঘল ঐতিহ্যের নিদর্শন দাঁড়িয়ে আছে।

মীর জুমলা গেট শুধু একটি পুরনো স্থাপনা নয়, বরং এটি ঢাকা শহরের শত শত বছরের ইতিহাসের সাক্ষী। সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রচার করা গেলে এটি পর্যটন আকর্ষণ হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে ঢাকা একসময় কীভাবে মুঘল সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছিল।

ইতিহাসবিদদের মতে, মীর জুমলা গেটকে সংরক্ষণ ও পুনঃস্থাপন করা হলে তা ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মানচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।