দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য: কারণ জানুন, সচেতন থাকুন

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৪৮ অপরাহ্ন, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৮:২০ অপরাহ্ন, ২১ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ হলেও প্রায়ই উপেক্ষিত হজমজনিত সমস্যা, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকেই সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্যকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও এটি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ, শক্ত মল, মলত্যাগে অতিরিক্ত চাপ বা অসম্পূর্ণতার অনুভূতি—এসব লক্ষণ কয়েক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে থাকলে তাকে দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়। এটি ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS), বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য-প্রধান ধরন (IBS-C)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

আরও পড়ুন: দাম্পত্য সম্পর্ক মজবুত করতে চার অভ্যাসের পরামর্শ হার্ভার্ড অধ্যাপকের

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। এর মধ্যে খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন ও কিছু চিকিৎসাজনিত কারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কম আঁশযুক্ত খাদ্য কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম প্রধান কারণ। আঁশ মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং অন্ত্রের গতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। দৈনন্দিন খাদ্যে আঁশের ঘাটতি থাকলে দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন: নীরবে ক্ষতি করে কিডনি রোগ, সচেতনতা ও জীবনযাপনের পরিবর্তনেই প্রতিরোধ

এছাড়া পর্যাপ্ত পানি না পান করলেও মল শক্ত ও শুষ্ক হয়ে যায়, যা ত্যাগ করা কঠিন করে তোলে। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা কম নড়াচড়াও হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।

অনেকেই মলত্যাগের স্বাভাবিক তাগিদ উপেক্ষা করেন, যা ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়ে সমস্যাকে জটিল করে তোলে। পাশাপাশি কিছু ওষুধ—যেমন ব্যথানাশক, বিষণ্ণতারোধী ওষুধ, অ্যান্টাসিড বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট—কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

হরমোনজনিত সমস্যা যেমন হাইপোথাইরয়েডিজম, স্নায়বিক রোগ যেমন পারকিনসন্স বা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস এবং কোলন বা রেকটামের গঠনগত সমস্যাও দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যা দীর্ঘদিন অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান ও নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ বজায় রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্য অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।