যুদ্ধ, ভিসা জটিলতার ফাঁদে প্রবাসী শ্রমবাজার,সহায়তায় হটলাইন চালু
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, আকাশপথে অনিশ্চয়তা এবং একের পর এক ফ্লাইট বাতিলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী। একদিকে ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে না পারার উদ্বেগ, অন্যদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকি—সব মিলিয়ে এক অস্থির সময় পার করছেন তারা। এই পরিস্থিতিতে সরকার সহায়তার আশ্বাস দিয়ে হটলাইন চালু করলেও সামনে চলে এসেছে বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারের এক রূঢ় বাস্তবতা।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, ফ্লাইট জটিলতায় যেসব প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের সহায়তায় মন্ত্রণালয় কাজ করছে। শনিবার সকালে সিলেটে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "প্রবাসীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রবাসীকল্যাণ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেবিচক যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।"
আরও পড়ুন: আগামীকাল যে পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রির আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের ৬৭ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে। এরপর কাতার (১০%), কুয়েত (৪%) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো প্রধান গন্তব্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে।
বিএমইটির পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৭ জন কর্মীর মধ্যে ৭৪ শতাংশই ছিল অদক্ষ বা স্বল্প দক্ষ শ্রমিক। দক্ষ কর্মী মাত্র ২২ শতাংশ এবং পেশাজীবী মাত্র ৪ শতাংশ। গত পাঁচ বছর ধরে এই চিত্র অপরিবর্তিত। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের মতে, ভারত বা ফিলিপিন্স দক্ষ কর্মী পাঠিয়ে বেশি আয় করলেও বাংলাদেশ এখনো সত্তরের দশকের মতো অদক্ষ শ্রমিকের ওপর নির্ভর করে আছে।
আরও পড়ুন: আতঙ্কিত হয়ে তেল না কেনার আহ্বান জ্বালানি মন্ত্রীর
দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞানের অভাবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর বিশাল শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারছে না বাংলাদেশ। জাপান কেয়ারগিভার ও মেকানিক খাতে প্রচুর কর্মী নিতে আগ্রহী হলেও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশনের অভাবে সেই সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। রামরুর মতে, বাজেট সংকট ও মানসম্মত প্রশিক্ষকের অভাবেই দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে না।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে গুণগত মান বা দক্ষতায় জোর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার না ঘটালে এবং কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।
অন্যথায় অদক্ষ শ্রমিকনির্ভর মধ্যপ্রাচ্য বাজারে আটকে থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং অর্থনীতি বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।





