আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধে আইন পাসের সুপারিশ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:১৬ অপরাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫৬ অপরাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান সংবলিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন এমপি প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার যে ধারা ছিল, তা কিছু পরিমার্জন এনে পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সংশোধনীগুলোর বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: অধ্যাদেশ আইন হলে তবেই স্থানীয় নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

এই অধ্যাদেশে সরকারকে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই আইনটি আনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশটি বাতিল না করে সংশোধনের মাধ্যমে স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। ফলে দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আইনি বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত কঠোর অধ্যাদেশটি আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা এই অধ্যাদেশটি স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ অধ্যাদেশসহ মোট ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ এখনই অনুমোদন না দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরবর্তীতে বিল আকারে সংসদে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্যাক্ট চেক ছাড়া সংবাদ প্রকাশ নয়: তথ্যমন্ত্রী

কমিটির মতে, মানবাধিকার কমিশন আইন, তথ্য অধিকার আইন এবং গুমবিরোধী আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তড়িঘড়ি করে এগুলো পাস না করে পূর্ণাঙ্গ বিল হিসেবে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে চলতি অধিবেশনে গুমবিরোধী আইনটি আর পাস হচ্ছে না।

বিগত সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া গুমের ঘটনা তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশটি জারি করেছিল, যেখানে গুমকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় সংক্রান্তসহ মোট ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গৃহীত এই অধ্যাদেশগুলোর মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। পাশাপাশি ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের উদ্যোগও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে এসব সংস্কার প্রস্তাব বাতিলের মুখে পড়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলীয় সদস্যরা, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা, ২০টি অধ্যাদেশে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) পোষণ করেছেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিলগুলো আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে পর্যায়ক্রমে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

উল্লেখ্য, পর্যালোচিত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ এখন সংসদীয় বিতর্কের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।