জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে মাঠে ১১ দল, ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ন, ২৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫৩ অপরাহ্ন, ২৫ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশব্যাপী ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, শহীদ পরিবারের দাবি তুলে ধরা এবং জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে জুলাই-আগস্টজুড়ে নানা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও গণসংযোগমূলক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজধানী থেকে উপজেলা পর্যন্ত সমাবেশ, সেমিনার, মানববন্ধন, চিত্রপ্রদর্শনী, স্মৃতিচারণ এবং গণমিছিলের মাধ্যমে কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে জোটটি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।

আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত দেশের সব জেলা ও মহানগরীতে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ৬ জুলাই জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে এবং স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। ৮ জুলাই রাজধানীতে জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হবে।

এ ছাড়া ২০ জুলাই নারীদের অংশগ্রহণে বিশেষ আলোচনা সভা, ২৩ থেকে ২৫ জুলাই জুলাই আন্দোলনভিত্তিক চিত্রপ্রদর্শনী এবং ৩১ জুলাই দেশের মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। একই দিনে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের নিজ নিজ উপাসনালয়ে প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: গুম দিবসে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

কর্মসূচির সমাপনী পর্বে ৫ আগস্ট রাজধানীসহ সারা দেশে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ এবং দেশব্যাপী গ্রাফিতি অঙ্কনের কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা এবং জনগণের রায়ের প্রতিফলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ৩৬ দিনের কর্মসূচির বিভিন্ন অংশ কোন তারিখে কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটি পর্যায়ক্রমে নির্ধারণ করবে।

তিনি আরও বলেন, পূর্বঘোষিত কয়েকটি মহানগরীর সমাবেশ নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ৪ জুলাই রাজধানীর বাইরে সারা দেশে গণমিছিল কর্মসূচিও পালন করা হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ১১-দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত ‘নৃশংসতা ও দমন-পীড়নের’ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কর্মসূচি চূড়ান্ত করতেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয় বলে নেতারা জানান।

বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আথারী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।