বাগেরহাট থিয়েটারের ৪৯ বছরে পদার্পণ

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো পুঁথি পাঠের আসর ও নাটক ‘ফান্দে পড়িয়া’

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:১০ অপরাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

‘নাটক হোক শোষণমুক্তির হাতিয়ার’—এই স্লোগানকে ধারণ করে বাগেরহাট থিয়েটারের ৪৮ বছর পূর্তি ও ৪৯ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠের আসর ও নাটক ‘ফান্দে পড়িয়া’। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেগুনবাগিচাস্থ স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে বাগেরহাট থিয়েটার ঢাকা ইউনিটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।     

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে বাগেরহাট থিয়েটারের প্রযোজনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "ডাকঘর" শ্রুতি নাটক একই দিনে বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্রে সম্প্রচার হয়েছে রাত ১০:০০টায়, হোম ও এফ এম- এ। ঢাকা কেন্দ্র। বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ডাকঘর' নাটকের দলগত পরিবেশনা।

আরও পড়ুন: মেয়ের প্রথম জন্মদিনে অপূর্বর আবেগঘন পোস্ট, প্রকাশ করলেন ছবি

৪৮ বছর আগে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, নাট্যকার ও অভিনেতা শেখ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় বাগেরহাট থিয়েটার। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নাটককে সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে সংগঠনটি নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ভূমিকা রেখে চলেছে। দক্ষিণাঞ্চলের নাট্যাঙ্গনের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ পথপরিক্রমায় নানা প্রতিকূলতা ও সময়ের পরিবর্তনকে অতিক্রম করে তার সৃজনশীল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। মঞ্চনাটকের মধ্য দিয়ে সমাজের অসংগতি, বৈষম্য ও শোষণের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের অধিকারবোধ জাগ্রত করা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা ছড়িয়ে দেওয়াই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য।

বাগেরহাট থিয়েটার ঢাকা ইউনিটের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠানে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুঁথি নিয়ে পরিবেশিত হয় ‘পুঁথি পাঠের আসর’। শব্দকল্পদ্রুমের শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী ও আবৃত্তিশিল্পীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই আসরে পাঠ করা হয় কবি মারুফুল ইসলামের ‘একুশের পুঁথি’ ও ‘স্বাধীনতার পুঁথি’, কবি কালের লিখনের ‘মাতৃভাষার পুঁথি’, কবি ফয়জুল আলম পাপ্পুর ‘মুক্তিযুদ্ধের পুঁথি’, রুকসানা মিলি‘র ঋতুর পুঁথি,  কবি তামান্না সারোয়ার নীপারের ‘ষড়ঋতুর পুঁথি’, দীনেশচন্দ্র সেন সংকলিত মৈমনসিংহ গীতিকার দ্বিজ কানাই রচিত ‘মহুয়ার পালা’ ও ‘কমলাসুন্দরীর গাঁথা’র অংশবিশেষ এবং কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ‘রাস্তার কবিতা’।

আরও পড়ুন: বইয়ের পাতায় উঠে আসছে আজিজুল হাকিমের অভিনয়জীবন

পুঁথি পাঠে অংশ নিয়েছেন ফাওজিয়া আনজুম ইলানা, কাজী আরিশা আফসান, অর্নিশ ঢালি আভীর, ওয়াজিহা আনজুম লিয়ানা, আদিবা হোসেন, আয়াত হাসান মোহর, মেহরিমা নওমী, নুওয়াইরাহ রশিদ ঋদ্ধি, কৃতিকা জোয়াদ্দার, সৌপ্তিক প্রনম রায় কাব্য, পিদিম বিনতে শাহিন, পারমিতা মাহবুব আরিশা, প্রত্যাশা বিনতে শাহিন, ইউসরা অনুভা, মিমহা বিনতে মনির, হীরা আক্তার, ফারহানা মিতু, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা, তুষার কান্তি রায়, লায়লা আক্তার, লুনা আফরোজা ও নাজমুল আহসান। পরিচালনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন নাজমুল আহসান।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মঞ্চস্থ হলো সুবিনয় দাসের লেখা নাটক ‘ফান্দে পড়িয়া’। নাটকটির নবনাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন তাবেদার ই রসুল চান্নু। এতে অভিনয় করেন এইচ এম আল মামুন,  অপু আহমেদ, তকদির আবিদ পনি, আখতারুজ্জামান ঝুলন, রহমাতুল করিম, ফাহিমা তাজরিন আভিজা ও তাবেদার ই রসুল চান্নু। নাটকটির প্রযোজনায় রয়েছে বাগেরহাট থিয়েটার।

আজ ১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বাগেরহাটে থিয়েটার ভবনে বাগেরহাট থিয়েটারের আয়োজনে রয়েছে স্মৃতিচারণ, শ্রুতিনাটক, আবৃত্তি ও আড্ডা।

বাগেরহাট থিয়েটারের ৪৮ বছরের গৌরবময় পথচলা ও ৪৯ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে এ আয়োজন বাংলার লোকঐতিহ্য, আবৃত্তিচর্চা ও মঞ্চনাটকের সম্মিলনে সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করার একটি প্রয়াস।