সভাপতি: মিল্টন সরকার, সাধারণ সম্পাদক: কৃষ্ণ চন্দ্র পাল

কাপাসিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

Sanchoy Biswas
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৪:০১ পূর্বাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পূজা উদযাপন ফ্রন্টের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কাপাসিয়া উপজেলা শাখার আয়োজনে ২৯ আগস্ট শুক্রবার বিকালে উপজেলা সদরে অবস্থিত মডিউল কনভেনশন সেন্টারে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

কাপাসিয়া উপজেলা সদরে অবস্থিত জয়কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ফ্রন্টের সদস্য বাবু জীবন ভৌমিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান।

আরও পড়ুন: শেরপুরে শিক্ষার্থী মায়মুনা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার মূল আসামী আপন ফুফা

অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতা পাঠ করেন বাবু বীরেশ্বর। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গাজীপুর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য বাবু বিধান কৃষ্ণ বর্মণ।

গাজীপুর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক কৃষ্ণ চন্দ্র পালের পরিচালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা।

আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০ জন

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপি নেতা ও কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক আফজাল হোসাইন, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর মহানগর শাখা ফ্রন্টের আহ্বায়ক শ্রী বাপ্পী দে, জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সুমন চন্দ্র সাহা, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মিল্টন সরকার, কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পূজা ফ্রন্টের সভাপতি চন্দন রক্ষিত, সনমানিয়া ইউনিয়নের পক্ষে লিটন চন্দ্র সরকার, ঘাগটিয়া ইউনিয়নের পক্ষে সঞ্জয় সরকার, বারিষাব ইউনিয়নের পক্ষে নকুল চন্দ্র সুত্রধর, কড়িহাতা ইউনিয়ন পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি রাজন চন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এফ এম কামাল হোসেন, গাজীপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব ফকির ইস্কান্দার আলম জানু, ঘাগটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বজলুল রশিদ নয়ন, কড়িহাতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান, কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হোসেন আরজু, তরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান সোহাগ বেপারী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরান হোসেন শিশির প্রমুখ।

প্রধান অতিথি শাহ রিয়াজুল হান্নান তার বক্তব্যে বলেন, ছাত্র জনতার আন্দোলনের ফলে আমরা ভারতীয় আগ্রাসন থেকে মুক্তি পেয়েছি। বিগত দিনে ভারত আমাদের দেশের সকল গোপন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। আগামী নির্বাচনে আমরা বাংলাদেশী হিসাবে ভোট দিবো। ১৭ বছর পর দেশের মানুষ প্রত্যক্ষভাবে ভোট দিবে। বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিরবিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করেছে। শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের যুদ্ধ সেদিন সফল না হলে জিয়াউর রহমানের ফাঁসি হতো। স্বাধীনতা এদেশে এক দলীয় বাকশাহী রাজনীতি চলছে। ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করলো। ৯৬ সালে জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের সাথে মিলে ষড়যন্ত্র করলো। স্বৈরাচারের সাথে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ সেদিন জাতীয় বেইমান হিসাবে আখ্যায়িত হয়েছিল। জুলাই-আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে বিএনপিই জনগণের পাশে ছিল। ৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মিলে দেশের মানুষকে যারা হত্যা করেছে, তারা আজ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। জামায়াতে ইসলামী এবং আওয়ামী লীগের হাতে জনগণের রক্ত রয়েছে। দায়িত্ববোধ থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অর্থ পাচার রোধ করতে হবে। নির্বাচনে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করলে প্রয়াত নেতা হান্নান শাহের স্বপ্ন এবং রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে পারবো। ভোটার বিহীন নির্বাচন জনগণের ভাগ্য বদলাতে পারেনি। আমরা নির্বাচিত হলে পরিবেশবান্ধব কলকারখানা গড়ে তুলে এলাকাকে উন্নত করবো। মাদক কারবারি ও মাদকাসক্তদের আইনের আওতায় এনে যুব সমাজকে রক্ষা করতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে কোনো পূজা মন্ডপ পাহারা দিতে হবে না। আগামী দূর্গা পূজায় বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা সহযোগিতা করবে। ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে থাকেনি, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যায়ভাবে কোন হিন্দুদের হয়রানি করা যাবে না। বিএনপির জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে একটি চিহ্নিত চক্র গভীর ষড়যন্ত্র করছে। তাদের ইঙ্গিতে কোনো ধরনের হয়রানি সহ্য করা হবে না। ঐক্যবদ্ধভাবে কাপাসিয়ার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখবো ইনশাআল্লাহ।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে সর্বসম্মতিক্রমে ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি মিল্টন সরকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু জীবন ভৌমিক, সহ-সভাপতি দীলিপ মজুমদার, সঞ্জয় সরকার, সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ চন্দ্র পাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উত্তম ধর, সাংগঠনিক বিকাশ চন্দ্র শীল। পরবর্তীতে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরি কমিটি গঠন করা হবে।