রূপগঞ্জে এশিয়ান হাইওয়ের পাশে রমরমা অবৈধ খোলা তেলের ব্যবসা, নীরব প্রশাসন
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের দুই পাশে প্রকাশ্যে চলছে জ্বালানি তেলের অবৈধ খোলা ব্যবসা। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সারি সারি অস্থায়ী দোকান বসিয়ে দিন-রাত ট্রাক থামিয়ে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন নামিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শতাধিক অবৈধ দোকান গড়ে উঠলেও দীর্ঘদিন ধরে এসব দোকানের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান উচ্ছেদ অভিযান নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুর থেকে মদনপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে একের পর এক খোলা তেলের দোকান বসেছে। সাওঘাট,ভূলতা,গাউছিয়া, কুসাবো, কালাদি, কাঞ্চন, চান টেক্সটাইল এলাকা, মায়ের বাড়ি, কাঞ্চন ব্রিজ, হাবিব নগর, সুমু মার্কেট, ইউসুফগঞ্জ, নীলা মার্কেট, বাণিজ্য মেলা সংলগ্ন এলাকা, মুড়াপাড়া বাজার এবং শহীদ ফাইয়াজ ফারহান সেতুর রূপসী পাশেও একই চিত্র দেখা যায়।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিন বন্ধুর মৃত্যু
স্থানীয়দের অভিযোগ, দূরপাল্লার ট্রাক থেকে চুরি হওয়া জ্বালানি তেল বিভিন্ন ড্রাম ও খোলা বোতলে ভরে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে। এসব দোকানে কোনো ধরনের অনুমোদন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। তবুও প্রশাসনের চোখের সামনেই দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চললেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অনেক দোকানে লাভ বাড়ানোর জন্য জ্বালানি তেলের সঙ্গে পানি মিশিয়ে বিক্রি করা হয়। ফলে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের ইঞ্জিন দ্রুত বিকল হয়ে পড়ছে। এতে সাধারণ চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
আরও পড়ুন: খুলনায় সেলুন থেকে ডেকে নিয়ে তরুণকে গুলি করে হত্যা
একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, খোলা ভেজাল তেল ব্যবহারের কারণে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ইঞ্জিন জ্যাম হয়ে যাওয়া। অনেক সময় তেলের সঙ্গে পানি মেশানো থাকে, ফলে হঠাৎ করেই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এতে রাস্তায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। তিনি অবিলম্বে খোলা তেলের দোকান বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন।
এদিকে বৈধ জ্বালানি তেল পাম্পের প্রতিনিধিরা জানান, মহাসড়কের পাশে অবৈধ দোকানে ভেজাল ও খোলা তেল বিক্রির কারণে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাম্প মালিকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কোটি টাকা বিনিয়োগ করে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করলেও অবৈধ খোলা তেলের কারণে তাদের বিক্রি কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভেজাল তেলের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে পাম্পগুলোর সুনামও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন—রূপগঞ্জ উপজেলা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকা। ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ অসংখ্য মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ককে কেন্দ্র করে যদি কোনো ট্রাকচালক, সহকারী কিংবা দোকানদার চুরি করা বা অবৈধভাবে সংগ্রহ করা জ্বালানি তেল বিক্রি করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন যে সব এলাকায় খোলা ও ভেজাল তেল বিক্রির অভিযোগ উঠে এসেছে, সেগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করব। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযানসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জননিরাপত্তা, সড়ক নিরাপত্তা এবং বৈধ ব্যবসা রক্ষার স্বার্থে রূপগঞ্জে এ ধরনের অবৈধ তেলের ব্যবসা বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।
এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ খোলা তেলের দোকান বন্ধে প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।





