সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহন চলছে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৩ প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ এর ভোট গ্রহণ চলছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের ৭২০ কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু চলছে। ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক আছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার ১২ টি উপজেলার মধ্যে ৮টি উপজেলা হাওর বেষ্টিত। জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে ২০ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৩৫ জন ভোটার এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ-১ আসনে ৫ লক্ষ ১ হাজার ৫৩০ জন, সুনামগঞ্জ-২ আসনে ৩ লক্ষ ৬ হাজার ৪৮ জন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ৩ লক্ষ ৭৩ হাজার ১৬ জন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ৩ লক্ষ ৭২ হাজার ১৮৫ জন, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে ৫ লক্ষ ২৭ হাজার ৪৫৬ জন। জেলায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৭২০টি। ভোটকক্ষ ৪ হাজার ২৫০টি। এর মধ্যে ৩২৩টি ভোটকেন্দ্র দুর্গম। ভোটগ্রহণে নিয়োজিত রয়েছেন ১৪ হাজার ১৪৬ জন কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: ভুয়া এজেন্ট সেজে ভোট কেন্দ্রে অবস্থান, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের সাজা
নির্বাচনে দেশ এবং দেশের বাইরে ১৮ হাজার ৮৭ জন পোস্টাল ভোট প্রদান করবেন। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ-১ আসনে ৩,৮০৫ জন, সুনামগঞ্জ-২ আসনে ১,৭১৯ জন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ৩,২১৮, সুনামগঞ্জ-৪ ৩,৭৮৬ জন সুনামগঞ্জ-৫ আসনে ৫,৫৫৯ জন। নির্বাচনী আচরণ বিধি দেখভাল করার জন্য ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটি, ভিজিলেন্স এবং অবজারভেশন টিম প্রতিনিয়ত কাজ করছে।
এদিকে নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পাদনের লক্ষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে নাতনিকে নিয়ে ভোট দিলেন বিএনপির প্রার্থী তমিজ উদ্দিন
এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদা থেকে আরও উচ্চপদে কর্মরত ১১ জন সরকারি কর্মকর্তাকে জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জ জেলায় ১২ জন বিচারককে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের উপজেলাওয়ারী ভোটকেন্দ্রের সার্বিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৪৮৮টি। জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের ১২ উপজেলার মধ্যে নয় উপজেলায় অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮৯টি। এছাড়াও দুর্গম কেন্দ্র ১৫৭টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ২৪২টি। সুনামগঞ্জ-১ আসনের জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের বিশ^ম্ভরপুর এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনের দোয়ারাবাজার উপজেলায় অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি মনিটরিং রয়েছে। সুনামগঞ্জ-১ আসনের চার উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলার ৩৮ কেন্দ্র অতিঝুঁকিপূর্ণ। জামালগঞ্জে কোন অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই।
দুর্গম কেন্দ্র রয়েছে ৮৩ টি ও ঝুঁকিপূর্ণ ৭৭টি। সুনামগঞ্জ-২ আসনের দুই উপজেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১২টি, দুর্গম কেন্দ্র ৩০ টি ও ঝুঁকিপূর্ণ ৩৭ টি। সুনামগঞ্জ-৩ আসনের দুই উপজেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২০টি, দুর্গম কেন্দ্র ১৪ টি এবং ৫৯ টি ঝুঁকিপূর্ণ। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের দুই উপজেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১০টি, দুর্গম কেন্দ্র ১২ টি ও ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮ টি। সুনামগঞ্জ-৫ আসনের দুই উপজেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৯ টি, দুর্গম ১৮ টি ও ৩১ টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। জেলার ৫ সংসদীয় আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বি ২৩ জন প্রার্থী। জেলার পাঁচটি আসনে নির্বাচনে ১০ দলের ১৯ জন এবং স্বতন্ত্র ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। স্বতন্ত্রদের মধ্যে দুইজন আবার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন তিনটি দলের তিনজন প্রার্থী। সুনামগঞ্জ-২ আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন তিনটি দলের তিনজন প্রার্থী। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। ৪ জন দলীয়, একজন বিএনপি বিদ্রোহী ও দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। এদের মধ্যে ৪ জন দলীয় মনোনীত ও একজন স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রার্থী। সুনামগঞ্জ-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ৫ দলের ৫ জন প্রার্থী।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন- বি.এন.পি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী তোফায়েল আহমদ (দাঁড়িপাল্লা) বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার (বই)।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত প্রার্থী নিরঞ্জন দাস (কাস্তে), বি.এন.পি মনোনীত প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির (দাঁড়িপাল্লা)।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন- বি.এন.পি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ (ধানের শীষ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শাহীনূর পাশা চৌধুরী (রিক্সা), স্বতন্ত্র মো. আনোয়ার হোসেন (তালা), স্বতন্ত্র মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার (টেবিল ঘড়ি), খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ (দেওয়াল ঘড়ি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল) ও স্বতন্ত্র হুসাইন আহমেদ (ফুটবল)। এই আসনের খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ (দেওয়াল ঘড়ি) গত ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন- বি.এন.পি মনোনীত প্রার্থী নূরুল ইসলাম (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন (মোটরসাইকেল), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. সামছ উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী শহীদুল ইসলাম (হাতপাখা)।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন-বি.এন.পি মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম (দাঁড়িপাল্লা), খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল কাদির (দেওয়াল ঘড়ি), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (লাঙ্গল) এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) মনোনীত প্রার্থী মো. আজিজুল হক (আম)।





