কম দামের ফাঁদে প্রতারণা, খেজুর ব্যবসায়ীর সন্ত্রাসী আচরণ

Sanchoy Biswas
সৈয়দ তারেক হাসান
প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ন, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতেই রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার কাওরান বাজার এলাকায় জমে উঠেছে খেজুরের বেচাকেনা। বিশেষ করে কাওরান বাজার মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন গলিতে সারিবদ্ধভাবে ডালায় সাজিয়ে বিভিন্ন জাতের খেজুর বিক্রি করতে দেখা যায় অস্থায়ী দোকানিদের। বাইরে থেকে দেখলে দামে কিছুটা কম এবং আকারে বড়, চকচকে খেজুর দেখে অনেক ক্রেতাই আকৃষ্ট হচ্ছেন। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।

বেশ কয়েকটি অস্থায়ী দোকানে দেখা যায়, ঢালার ওপরের অংশে বড় ও তুলনামূলক ভালো মানের খেজুর থরে থরে সাজিয়ে রাখা হলেও নিচের স্তরে রয়েছে ছোট আকারের, অতিরিক্ত নরম কিংবা পচা খেজুর। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, দেখিয়ে দেওয়া খেজুর আর ওজন করে দেওয়ার খেজুরের মধ্যে মিল থাকে না। কেউ কেউ জানান, ওজনের সময় ভালো খেজুর সরিয়ে নিচের স্তরের খেজুর তুলে দেওয়া হচ্ছে। বাড়িতে নিয়ে গিয়ে প্যাকেট খুলে তবেই তারা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারছেন।

আরও পড়ুন: রমজানের প্রথম দিনে জমে উঠেছে ইফতারের বাজার

রমজানে খেজুরের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নাত হওয়ায় প্রতিদিনের ইফতারে এটি অন্যতম প্রধান উপাদান। এই বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কম দামের প্রলোভন দেখিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, স্থায়ী দোকানের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা কম দামের কথা বলে বিক্রি করা হলেও মানের তারতম্য এবং ওজনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে কম দামে কিনতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

আরও অভিযোগ রয়েছে, খেজুর পছন্দ না হলে বা বদলে দিতে চাইলে অনেক সময় দোকানিরা রূঢ় আচরণ করছেন। দামাদামি করে না কিনলে বা অভিযোগ তুললে কথার মারপ্যাঁচে ফেলে বিব্রত করা হচ্ছে ক্রেতাদের। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকজন মিলে এক ধরনের সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এসব অস্থায়ী দোকান পরিচালনা করছে। কেউ প্রতিবাদ করলে আশপাশের বিক্রেতারাও একজোট হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন: রমজানের প্রথম দিনে রাজধানীতে যানজট, ইফতারের আগে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা

এদিকে খোলা জায়গায় ধুলোবালি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খেজুর বিক্রি হওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাজার তদারকি সংস্থার নিয়মিত নজরদারি চোখে না পড়ায় অসাধু চক্র সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রমজানের মতো পবিত্র মাসে যেখানে সততা ও সংযমের শিক্ষা দেওয়া হয়, সেখানে খেজুরকে কেন্দ্র করে এমন প্রতারণা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। ভোক্তারা বলছেন, দ্রুত তদারকি জোরদার না হলে কম দামের প্রলোভনে আরও অনেক মানুষ প্রতারিত হবেন।