শেয়ার কেলেঙ্কারি

সাকিবসহ ১৫ জনের নথি জব্দ করেছে দুদক

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ন, ১৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ৮:২৬ অপরাহ্ন, ১৮ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শেয়ার বাজারে ২৫০ কোটি টাকার কারসাজির মামলায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের নথি জব্দ করেছে দুদক। সম্প্রতি সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন থেকে এসব নথিপত্র জব্দ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এছাড়া, সাকিবের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সংক্রান্ত নথিপত্র পেতে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম গতকাল সোমবার এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম, মধ্যরাত থেকে কার্যকর

তিনি বলেন, ‘ওই মামলার তদন্ত চলছে। পুঁজিবাজারে আলোচিত কারসাজির ঘটনায় সম্প্রতি বিএসইসি থেকে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।’

একসময়ের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ছিলেন দুদকের দুর্নীতি বিরোধী শুভেচ্ছা দূত, সময়ের ব্যবধানে তার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির খোঁজ করছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন: টেকসই প্রবৃদ্ধি ও শরী‘আহভিত্তিক ব্যাংকিং লক্ষ্য নিয়ে এনসিসি ব্যাংকের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগে মাগুরা-১ আসনের সাবেক এই এমপিসহ আবুল খায়ের হিরু চক্রের ১৫ জনের বিরুদ্ধে ২৫৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে দুদক। এর মধ্যে সাকিবের বিরুদ্ধে সরাসরি ২ কোটি ৯৫ লাখ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ঘটনার তদন্তে দুদকের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে কমিটি। তারা সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযুক্ত ১৫ জনের ২৩ ধরনের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠায়। এদিকে, সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারসহ অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানও করছে দুদক।

দুদকের মামলায় বলা হয়েছে, আবুল খায়ের হিরুর মাধ্যমে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এবং সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে বিনিয়োগ করেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান।

হিরুর কারসাজিকৃত এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করে সাকিব মার্কেট ম্যানিপুলেশনে যোগসাজশ করেন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওই শেয়ারে বিনিয়োগে প্রতারণার মাধ্যমে প্রলুব্ধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদক বলছে, সাকিব এভাবে ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে পুঁজিবাজার থেকে তুলে আত্মসাৎ করেন।

মামলার প্রধান আসামি সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মো. আবুল খায়ের, যিনি হিরু নামে পরিচিত। বাকি আসামিরা হলেন-সাকিব আল হাসান, আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, মো. জাহেদ কামাল, মো. হুমায়ুন কবির ও তানভির নিজাম।

গত বছরের এপ্রিলে সাকিবের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে তখন দুদকের উপপরিচালক মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়।

পরে মাহবুবুল আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর সাকিবের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনকে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাগুরা ১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাকিব। অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় তিনি কানাডায় ছিলেন। এরপর আর দেশে ফেরেননি তিনি।

এক সময় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং দুদকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন সাকিব। ২০১৮ সালে দুদকের হটলাইন ১০৬ উদ্বোধন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রচারে তিনি ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত হন। তবে নানা বিতর্কের কারণে ২০২২ সালে তার সঙ্গে করা চুক্তি আর নবায়ন করেনি দুদক।

শেয়ার কারসাজির অভিযোগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাকিবকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল বিএসইসি। এরপর ৮ নভেম্বর তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করার কথা জানায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

বিদেশে থাকা সাবেক এই সংসদ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আসে গত ১৬ জুন।