ডাকসু: জমজমাট প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন অনেকের

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৭:৫০ অপরাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ছুটির দিনেও জমজমাট প্রচারণায় ব্যস্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রার্থীরা। তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অধিকাংশ প্রার্থী প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি অনলাইনে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। এছাড়া, ৮টি বুথের মাধ্যমে ৪০ হাজার ভোটগ্রহণ চ্যালেঞ্জিং বলেও জানান প্রার্থীরা।

শুক্রবার ছুটির দিনের সকালে ডাকসু নির্বাচনের ঢিলেঢালা প্রচারণা চললেও জুমার নামাজের পর ৪র্থ দিনের প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে উঠেন প্রার্থীরা। নিজের হল ছাড়িয়ে অন্যান্য জায়গাতেও প্রচার চালান তারা।

আরও পড়ুন: মাদ্রাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ

জুমার নামাজ শেষে বিজয় একাত্তর হলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রার্থীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে একটি গোষ্ঠী অনলাইনে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আবিদুল ইসলাম খান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, “আপনারা কোনো অপপ্রচারে কান দেবেন না। যে ঘটনাই ঘটুক না কেন, পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে তারপর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমরা কোনো অপরাধ করলে আপনাদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু কোনো মিথ্যা ঘটনা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেবেন না।”

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথাগুলো বলেন।

আরও পড়ুন: জাকসুর ছাত্রদল প্যানেলে বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া মৌসুমী

আবিদুল বলেন, “ইতিমধ্যে আমাদের প্যানেলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদপ্রার্থীর ফেসবুক আইডি হ্যাক করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থীর ফেসবুক আইডি হ্যাক করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, আমাদের প্রার্থীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে একটি গোষ্ঠী অনলাইনে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “অনলাইনে অপপ্রচার চালাতে থাকলে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। আমরা কোনো অভিযোগ দিতে চাই না। অভিযোগের দিকে যেতে চাই না। সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পথে সম্মিলিতভাবে হাঁটতে চাই। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠিত হয়েছে, সেটি ফিরিয়ে আনতে চাই। আশা করি, সেটির সূচনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই হবে। ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই যেন সবার প্রতি সহযোগিতামূলক আচরণ করে, সেই প্রত্যাশা করছি।”

ডাকসু নির্বাচনের এই ভিপি প্রার্থী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন, ইনস্টিটিউট—যেখানেই যাচ্ছি, সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। ক্যাম্পাসে নির্বাচনের সুন্দর আমেজ বইছে। কিছু কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে, যেগুলো নিয়ে আমরা প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি।”

ডাকসু নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবিদুল বলেন, “আমি আবারও অনুরোধ করব, যেসব ফেসবুক পেজ বা অনলাইনে বিভিন্ন প্রার্থীর সম্পর্কে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসব পেজ থেকে নানা ভুল তথ্য, অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন-বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী আরিফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী মেহেদী হাসান প্রমুখ।

গতকাল দুপুর ২টার পর প্রচারণা শুরু করেন শিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম। এ সময় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সাদিক কায়েম বলেন, “কোনো একটি ছাত্র সংগঠনকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া এবং এর মাধ্যমে ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে একটি অবস্থান তৈরি হয়ে যাওয়া—কোনোটাই কাম্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের যে মূল কাজ অর্থাৎ জ্ঞান উৎপাদন, বিতরণ বা জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা—সেই কাজটা আমরা করতে পারিনি।”

আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও প্রশাসন নির্লিপ্ত বলে অভিযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংসদ। মাত্র ৮টি বুথে ৪০ হাজার ভোটগ্রহণ নিয়েও আপত্তি জানায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ। কিছু প্রার্থীকে জেতানোর চেষ্টা করলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি দেন প্রতিরোধ পর্ষদের জিএস প্রার্থী।

নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রতিদিন রাত ১১টা পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে প্রচারণা, ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনের ভোট।