ঢাবিতে ২০ লাখ টাকার দুটি ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠা, বৃত্তি ও গবেষণায় সহায়তা পাবেন শিক্ষার্থীরা

Any Akter
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:১০ অপরাহ্ন, ২০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:০৭ পূর্বাহ্ন, ২১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও গবেষণা কার্যক্রমে সহায়তা দিতে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি নতুন ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে এ লক্ষ্যে ২০ লাখ টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়। নবগঠিত ট্রাস্ট ফান্ড দুটি হলো— ‘Dr. Mazid Scholarship Trust Fund’ এবং ‘Rosie Anwara Mazid Trust Award’। প্রতিটি তহবিলের জন্য ১০ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্যের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম তালুকদার, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শফিউল আলম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসতিয়াক এম. সৈয়দ, ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনশী শামস উদ্দিন আহম্মদ, দাতা সদস্য ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ ও আফরোজা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে জাপানের অধ্যাপকের সাক্ষাৎ

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘Dr. Mazid Scholarship Trust Fund’-এর আয়ের মাধ্যমে প্রতিবছর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিএস (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী দুই শিক্ষার্থীকে এমএস শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় এককালীন ৪০ হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হবে।

অন্যদিকে ‘Rosie Anwara Mazid Trust Award’-এর আয় থেকে ইইই বিভাগের বিএসসি (সম্মান) শ্রেণির মেধাবী ও অসচ্ছল দুই শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা হারে গবেষণা বৃত্তি দেওয়া হবে। ফলে প্রত্যেক শিক্ষার্থী মোট ৩৬ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

আরও পড়ুন: চবি ও হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের উদ্ভাবন ‘FarmNexa’: স্মার্ট কৃষিতে নতুন মাইলফলক

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য দাতা সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজ নিজ বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে এগিয়ে আসছেন, যা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।

তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অগ্রগতিতে অ্যালামনাইদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ এবং গবেষণা তহবিল বৃদ্ধিতে তাদের সম্পৃক্ততা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।