অধ্যাপক কাবেরী গায়েনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে ঢাবি প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি

Any Akter
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ন, ১৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৯ অপরাহ্ন, ২০ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক কাবেরী গায়েনের বিরুদ্ধে আহত শিক্ষার্থী ও ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বিকে নিয়ে প্রকাশ্যে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ. কে. এম. ইসরাফিল হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় অন্যতম সংগঠক রিয়াদুল ইসলাম জুবাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রক্টরের কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ছাত্রলীগের হামলায় আহত শিক্ষার্থী ও ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বিকে নিয়ে অধ্যাপক কাবেরী গায়েন প্রকাশ্যে অবমাননাকর, অশোভন ও নিন্দনীয় মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাবিতে ২০ লাখ টাকার দুটি ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠা, বৃত্তি ও গবেষণায় সহায়তা পাবেন শিক্ষার্থীরা

এ সময় রিয়াদুল ইসলাম জুবা বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কর্তৃক আহত একজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা, শিক্ষকতার পেশাগত নৈতিকতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধতার পরিপন্থী। এমন আচরণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অতীতের কিছু বক্তব্যের সঙ্গে মিল রেখে অধ্যাপক কাবেরী গায়েন জুলাই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন, যা শিক্ষার্থীদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন: চবি ও হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের উদ্ভাবন ‘FarmNexa’: স্মার্ট কৃষিতে নতুন মাইলফলক

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—

১. ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করা।

২. অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অধ্যাপক কাবেরী গায়েনের বিরুদ্ধে যথাযথ ও দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি যেন কোনো শিক্ষার্থীকে নিয়ে অবমাননাকর বা মানহানিকর মন্তব্য করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

৪. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকল শিক্ষার্থীর সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

স্মারকলিপি গ্রহণের পর প্রক্টর অধ্যাপক এ. কে. এম. ইসরাফিল হোসেন শিক্ষার্থীদের জানান, তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপাচার্যকে অবহিত করবেন। পাশাপাশি একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।