যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত, ঘোষণা যেকোনো সময়
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হয়েছে বলে জানিয়েছে দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশিত খসড়া অনুযায়ী, উভয় দেশ জল, স্থল ও আকাশপথে তাৎক্ষণিক, ব্যাপক ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি একে অপরের সামরিক, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় কোনো ধরনের হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনায় ইরান, কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত
চুক্তির আওতায় সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে চলমান প্রচারণামূলক ‘মিডিয়া যুদ্ধ’ও স্থগিত করার কথা বলা হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে আরব সাগর, হরমুজ প্রণালি ও ওমান সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করবে: ট্রাম্পের কঠোর বার্তা
সমঝোতা বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের জন্য একটি যৌথ তদারকি ব্যবস্থা গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি চুক্তি ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে দুই দেশ অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, ইরান চুক্তির শর্তগুলো মেনে চললে পর্যায়ক্রমে দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে এখনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় ওয়াশিংটন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে টোল বা শুল্ক ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা চালিয়ে যায়, তাহলে সংকটের সমাধান কঠিন হবে।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
এদিকে রয়র্টাস এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনো কিছু মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের অবস্থান আগের তুলনায় অনেক কাছাকাছি এসেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।





