ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, ০৪ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, ০৪ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র ছেলে মোজতবা খামেনি। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী  (আইআরজিসি)-র প্রভাব ও চাপে এসেম্বলি অব এক্সপার্ট তাকে এ পদে নির্বাচিত করেছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন পর্দার আড়ালে থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রে সক্রিয় থাকা মোজতবা এখন দেশটির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় প্রধান।

পারিবারিক ও শিক্ষাজীবন

আরও পড়ুন: সরকার পতনের চেষ্টা হলে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি ইরানের

১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের মাশহাদে জন্ম নেওয়া মোজতবা খামেনি এক ধর্মীয় পরিবারে বেড়ে ওঠেন। ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে তিনি আইআরজিসিতে যোগ দেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে অংশ নেন। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে কোম শহরের সেমিনারিতে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং সেখানে শিক্ষকতাও করেন।

ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উত্থান

আরও পড়ুন: ইরানের বিরুদ্ধে কুর্দি যোদ্ধাদের স্থল অভিযান শুরু

মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ‘অফিস অব দ্য সুপ্রিম লিডার’-এর প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাবার দপ্তরে কাজ করার সুবাদে সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শক্তিশালী যোগাযোগ গড়ে তোলেন। তাকে ইরানের অন্যতম ‘পাওয়ার ব্রোকার’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

তবে তার উত্থান বিতর্কহীন ছিল না। ২০০৫ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ-এর বিজয়ে নেপথ্যে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ২০০৯ সালের নির্বাচন-পরবর্তী আন্দোলন এবং ২০২২ সালে জিনা মাহসা আমিনি-র মৃত্যুর পর দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোরভাবে পরিচালনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে উঠে আসে।

২০২২ সালের আগস্টে কোম সেমিনারির সংশ্লিষ্ট একটি মাধ্যম তাকে ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধি দেয়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, উত্তরসূরি হওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ উপাধি ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আনা হয়।

সংকটকালে দায়িত্ব গ্রহণ

বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিলেন, যখন ইরান গভীর ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মুখে। দীর্ঘদিন বাবার ছায়ায় থেকে পর্দার আড়ালে কাজ করলেও, এখন তাকে প্রকাশ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব সামলাতে হবে।