ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার আশায় ডলারের দরপতন
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে টানা সপ্তম দিনের মতো মার্কিন ডলারের মান কমেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার তুলনায় কম মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, যা ডলারের দরপতনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনের লেনদেন শেষে ডলার সূচক ০.২৬ শতাংশ কমে ৯৮.৮ পয়েন্টে নেমে আসে, যা গত ২ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থান।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আস্থার সংকট গভীর, এক রাতে সমাধান সম্ভব নয়: ভ্যান্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তান-এ নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। আগের বৈঠকগুলো সফল না হলেও পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মুদ্রাস্ফীতির হার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় কম হওয়ায় ডলারের ওপর চাপ কিছুটা বেড়েছে।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে, তবে অভিযান এখনও শেষ নয়: ট্রাম্প
বাজার বিশ্লেষক কার্ল শামোট্টা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে। এ প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রতীকী চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং হামলা বন্ধে ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে, ডলারের বিপরীতে ইউরোর মান ০.৩৩ শতাংশ বেড়ে ১.১৭৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতেও ডলার দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যদি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তবে ডলারের মান আরও কমে প্রাক-সংঘাত পর্যায়ে ফিরে যেতে পারে।





