শিশু রামিসা হত্যায় নতুন নাম ডলার নিয়ে রহস্য তৈরি!

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:১২ অপরাহ্ন, ০১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৩:১২ অপরাহ্ন, ০১ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সকাল পৌনে ৮টায় চার্জগঠনের শুনানির জন্য সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে বেলা ১১টার পর তাদের ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটির জন্য তিনি একা দায়ী নন এবং তার স্ত্রীরও কোনো দোষ নেই। একই সঙ্গে তিনি ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন। তবে এ বিষয়ে তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

সোহেল রানা আরও অভিযোগ করেন, তার ডিএনএ পরীক্ষা না করেই কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘ডলার’ নামে যাকে উল্লেখ করেন, তাকে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার একজন বিত্তশালী ব্যক্তি বলে দাবি করেন।

এর আগে সকাল পৌনে ৮টার দিকে দুই আসামিকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ।

আরও পড়ুন: রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে সোহেল রানা ও স্ত্রী স্বপ্না

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র দাখিলের দিনই মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। আদালত ১ জুন চার্জগঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন।

এদিকে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেছেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। তবে বিচারিক কার্যক্রমের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল নেবে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে একটি বালতির ভেতর তার কাটা মাথা উদ্ধার করেন।

ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় দুই আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।