জাল শেনজেন ভিসায় ইতালিতে মানবপাচার, বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তা গ্রেফতার

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:৩৭ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৬ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাল শেনজেন ভিসা ব্যবহার করে ইতালিতে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে বাংলাদেশ বিমানের এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির মানব পাচার প্রতিরোধ (টিএইচবি) ইউনিট মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আখলাছুর রহমানকে (৪০) গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আখলাছুর রহমান বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সে জুনিয়র অফিসার (গ্রাউন্ড সার্ভিস, আইএনএস গেইট) হিসেবে কর্মরত। তার স্থায়ী ঠিকানা জামালপুরের বকশীগঞ্জে এবং বর্তমান ঠিকানা ঢাকার দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায়।

আরও পড়ুন: ওমানে গাড়ির ভেতর চার ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু, দেশে শোকের ছায়া

সিআইডি জানায়, মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্য ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকায় চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগীরা জনপ্রতি ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। পরে তাদের নেপালগামী ও ইতালিগামী বিমান টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ইতালির শেনজেন ভিসা সরবরাহ করা হয়।

গত ২৬ মে তারিখে ভুক্তভোগীরা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ইতালির উদ্দেশে রওনা দেন। তবে ইতালির রোম ফিউমিচিনো লিওনার্দো দা ভিঞ্চি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের পাসপোর্টে থাকা শেনজেন ভিসা পরীক্ষা করে জাল বলে শনাক্ত করে।

আরও পড়ুন: ইতালিতে ছোট ভাইকে হত্যা করে ভিডিও কলে পরিবারকে দেখাল বড় ভাই

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের দুই দিন আটক রাখার পর ২৮ মে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

বাংলাদেশে ফিরে ইমিগ্রেশন পুলিশ, সিআইডি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। তদন্তে উঠে আসে, মানবপাচারকারী চক্রটি বৈধ কর্মসংস্থানের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জাল ভিসা সরবরাহের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় বিমানবন্দর (ডিএমপি) থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬, ৭, ১৬ ও ১৭ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ১০৯ ধারায় মামলা (নং-২৭) দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তে সিআইডির টিএইচবি ইউনিট গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তা আখলাছুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পায়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, মানবপাচার চক্রের মূলহোতা এবং অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। মানবপাচার, জাল ভিসা বা অভিবাসী চোরাচালান সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে তা দ্রুত সিআইডিকে জানাতেও অনুরোধ করা হয়েছে।