মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবনে ৭ জেলে অপহরণ

সাতক্ষীরা রেঞ্জ সুন্দরবন থেকে সাত জেলেকে অপহরণ করে মুক্তপনের দাবি করেছে সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনী।
গত সোমবার (২৫ আগস্ট) ও মঙ্গলবার দুইদিনে সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন নদী থেকে তাদের সাতজনকে অপহরণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে শিক্ষার্থী মায়মুনা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার মূল আসামী আপন ফুফা
দস্যুবাহিনীর হাতে বন্দি অপহৃত জেলেরা হলেন, উপজেলার পার্শেখালি এলাকার ইব্রাহিম সরদার পিতা ছাকাত সরদার, কালিঞ্চী এলাকার আব্দুল হাকিম পিতা গফুর গাজী, সুজিত মুন্ডা পিতা সুজন মুন্ডা, ও সাত্তার গাজী পিতা বোরহান গাজী, আকিনুর পিতা কেনা গাজী, কৈখালীর বুলবুল গাজী পিতা আইনাল গাজী এবং রমজাননগরে তারানীপুর গ্রামের আরাফাত হোসেন পিতা কাদের হোসেন।
অপহরণের শিকার জেলেদের বরাত দিয়ে তাদের ফিরে আসা সহকর্মী আবুল হোসেন এবং আব্দুল আজিজ সহ স্থানীয়রা জানান, সুন্দরবনের দাড়গাং নদী সংলগ্ন একটি খালে তারা নৌকা ঘাটিয়ে জালদড়া মেরামতের কাজ করতেছিলেন। এমতাবস্থায় ৬/৭ জনের একটি ডাকাতের দল এসে সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দফা সেখানে হানা দেয়। এক পর্যায়ে তারা চারটি নৌকা থেকে চারজনকে অপহরণ করে নিয়ে বনের ভিতরের দিকে চলে যায়। এছাড়াও হোগল ডোকরা খাল এবং কালির খাল থেকে বাকী তিনজন জেলেকেও তারা অপহরণ করে নিয়ে যায় ডাকাত বাহিনীরা।
আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০ জন
স্থানীয় অপর আরেকটি সূত্র বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ এমতাবস্থায় অপহৃত জেলেরা সহ আরও অনেকেই অবৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করে মাছ ও কাকড়া শিকার করছিল।
এদিকে, অপহৃত জেলে সুজন মুন্ডা ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছে, তিনি জানিয়েছেন, সুন্দরবন থেকে আমাদের অপহরণ করেছিলো নতুন একটি বনদস্যু বাহিনী তাদের নাম হলো “মুন্না বাহিনী” এরাই এসব জেলেদের অপহরণ করেছে।
রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ লালটু বাংলাবাজার প্রতিনিধিকে বলেন, বনদস্যুরা আমার এলাকার কয়েকজন জেলেকে অপহরণ করেছে। তারা জেলেদের মুক্তিপণ বাবদ মাথাপিছু ৫০/৬০ হাজার টাকা করে দাবি করতেছে। এছাড়াও বনদস্যুদের স্থানীয় সহযোগীরা ৩/৪ দিন আগে ২৫-৩০ হাজার টাকার কাঁচামাল বাজার সদয় করে সুন্দরবনে পাঠিয়েছে তথ্য ও শোনা যাচ্চে।
এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ ফজলুল হক জানান, এখন সুন্দরবনে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে, কয়েকজন জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে তিনি লোক মুখে শুনেছেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, কয়েকজন জেলেকে অপহরণের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে পুলিশ রওনা দিয়েছে। দস্যুদের জন্য কেউ বাজার সদয় পাঠিয়ে থাকলে উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।