ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজনে দেশি-বিদেশি ফুলের সমারোহ, এ যেন এক মিনি জাপান

Sanchoy Biswas
মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৩২ অপরাহ্ন, ১০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৫ অপরাহ্ন, ১০ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজনে দেশি-বিদেশি ফুলের সমারোহ এমন মনোমুগ্ধকর যে, দৃশ্য দেখলে মনে হবে এটা জাপানের কোনো এক স্থান। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলছেন।

ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলমুখী অন্যতম ব্যস্ত করিডর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এখন বসন্তের কাব্যিক রূপে সেজেছে। মহাসড়কের বিভাজন জুড়ে ফুটেছে রক্তরাঙা পলাশ, হালকা ও গাঢ় গোলাপি জাপানি ক্যাসিয়া রেনিজেরা, নীল কাঞ্চন, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, কদম, বকুল, জারুলসহ নানা প্রজাতির ফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হয় রঙিন গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে প্রকৃতি।

আরও পড়ুন: শ্রীপুরে মাদকের টাকার জন্য বাবাকে বেঁধে নির্যাতন, ছেলের দুই মাসের কারাদণ্ড

যাত্রীরা ছবি তোলার জন্য গাড়ি থামাচ্ছেন, ভিডিও করছেন, আবার কেউ জানালা দিয়ে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। উত্তরা থেকে আসা শিক্ষার্থী আহনাফ জানান, “ফেসবুকে ভিডিও দেখেছি, সরাসরি দেখতে এসে যেন অন্য এক পরিবেশে প্রবেশ করেছি।”

সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) জানিয়েছে, মহাসড়কের সৌন্দর্য ও পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় ৭-৮ বছর আগে ডিভাইডারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ রোপণ করা হয়। নিয়মিত পরিচর্যা ও ছাঁটাইয়ের ফলে এখন গাছগুলো পূর্ণতা পেয়েছে।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে ১টি বিদেশী রিভলবার ও ৪৬ রাউন্ড গুলিসহ এক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

সওজ ময়মনসিংহের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তারিক হোসেন বলেন, “মহাসড়ক শুধু যানজটের পথ নয়; এটি জনপদের মুখচ্ছবি। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নান্দনিকতা নিশ্চিত করা হয়। ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

ঢাকা থেকে নেত্রকোনাগামী এক যাত্রী বলেন, “দীর্ঘ পথযাত্রা একঘেয়ে হয়ে যায়। কিন্তু এখানে পৌঁছানোর পর চোখে শান্তি লাগে।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অনেকেই গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার পরিচিতিও বেড়েছে।

পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন, মহাসড়কের দুই পাশে ও মিডিয়ানে গাছের সারি ধুলাবালি ও কার্বন শোষণে সহায়ক এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সড়কটি সম্পূর্ণভাবে সবুজ করিডরে পরিণত হলে এটি পর্যটন আকর্ষণ হিসাবেও গড়ে উঠবে।

মহাসড়কের ডিভাইডারে রয়েছে: নীল কাঞ্চন, কামিনী, কৃষ্ণচূড়া, জোড়া টগর, রাধাচূড়া, অগ্নিশ্বর, পলাশ, গৌরীচূড়া, কনক চূড়া, কনক চাঁপা, কদম, কাঠবাদাম, জারুল, রক্ত করবী এবং জাপানি ক্যাসিয়া রেনিজেরা।

এগুলোর মধ্যে বসন্তে প্রধানত ক্যাসিয়া রেনিজেরা, পলাশ, জারুল, সোনালু ও রাধাচূড়া ফুল ফোটে, যা মহাসড়কের বিভাজককে এক টুকরো জাপানের মতো রূপ দিয়েছে।

সওজ জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত গাছ পুনরায় রোপণ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সুরক্ষা জোরদার করা হবে। মহাসড়কটি এখন শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়—এটি বসন্তের সৌন্দর্য প্রদর্শনের এক দৃষ্টিনন্দন করিডরে পরিণত হয়েছে।