ব্লু ইকোনমি উন্নয়নে ঢাবি-চীনের যৌথ গবেষণা কার্যক্রমের উদ্বোধন

Any Akter
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ন, ০২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ব্লু ইকোনমির বিকাশে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের যৌথ গবেষণা কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এক সেমিনারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভারন্যান্স (ICOG-DU) এবং চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফি (FIO)-এর যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের উপকূলীয় জলসীমায় আধুনিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশগত মডেলিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

HEAT ATF Sub-Project 13025-এর আওতায় আয়োজিত এ সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: ১ জুলাই উদযাপিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর, HEAT প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ড. টোনিয়া অ্যাস্ট্রিড ক্যাপুয়ানো এবং FIO-এর বিজ্ঞানী ড. শুমিন জিয়াং। স্বাগত বক্তব্য দেন ICOG-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. কে. এম. আজম চৌধুরী।

সেমিনারে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (SPARRSO)-এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির বিজ্ঞানীরাও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ঢাবি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের নতুন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালাম

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, সমুদ্রবিজ্ঞান, উপকূলীয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও চীনের চলমান বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা, উপকূলীয় ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বাংলাদেশের অর্থনীতি, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। এ প্রেক্ষাপটে FIO-এর সঙ্গে পরিচালিত যৌথ গবেষণা দেশের সমুদ্র পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

উপাচার্য জানান, আন্দামান সাগরে GNSS বয়া সফলভাবে স্থাপন এবং মেঘনা মোহনায় CNSS বয়া স্থাপনের উদ্যোগ বাংলাদেশের সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। এসব প্রযুক্তি উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা, নৌ-নিরাপত্তা, দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি, জলবায়ু অভিযোজন এবং টেকসই ব্লু ইকোনমি পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনুমোদিত HEAT উপপ্রকল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, এটি দেশের গবেষকদের সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। প্রকল্পের গবেষণালব্ধ ফলাফল পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনের সামুদ্রিক ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষণার নেতৃত্ব তাদেরই দিতে হবে।

সেমিনারের কারিগরি অধিবেশনে FIO-এর বিজ্ঞানীরা আধুনিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, সামুদ্রিক ভূ-ঝুঁকি এবং উপকূলীয় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি HEAT প্রকল্পের অগ্রগতি, মডেলিং কাঠামো এবং GNSS Buoy Deployment Project-এর ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক মাঠপর্যায়ের প্রযুক্তি ও সংখ্যাগত মডেলিং সমন্বয়ের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দূষণের গতিশীলতা, বিষাক্ত পদার্থের বিস্তার এবং উপকূলীয় অঞ্চলে দূষণ সঞ্চয়ের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে। এ জন্য Delft3D মডেলিং সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ পরিবেশগত ডেটাবেইস গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষকদের জন্য রিয়েল-টাইম বয়া তথ্য বিশ্লেষণ, সমুদ্রবিজ্ঞানভিত্তিক মডেলিং, উপকূলীয় ঝুঁকি পূর্বাভাস এবং পরিবেশগত পর্যবেক্ষণে দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক, ভারী ধাতু ও তেল দূষণের প্রভাব মূল্যায়ন এবং তা মোকাবিলায় তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কার্যকর একটি গবেষণা প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠবে।

সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে ICOG-DU ও FIO-এর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে ক্রেস্ট বিনিময় করা হয়।