নির্বাচনী মাঠ ফাঁকা, ভোটকেন্দ্রই এখন মূল মঞ্চ

Any Akter
আহমেদ শাহেদ
প্রকাশিত: ১২:৪২ অপরাহ্ন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে টানা প্রচার-প্রচারণার ইতি টেনেছে নির্বাচনে অংশ নেয়া সকল প্রার্থীরা। মঙ্গলবার ভোর থেকে শেষ হয়েছে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৭টার পর নির্বাচনী এলাকায় আর মিছিল, জনসভা বা মাইকিং করা যাবে না। ফলে সোমবার রাতেই শেষ মুহূর্তের শোডাউন, পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থীরা।

প্রস্তুত নির্বাচন কমিশনও। সারা দেশে পৌঁছে গেছে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে রয়েছে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী। এখন সব অপেক্ষা ভোটের দিনের।

আরও পড়ুন: ভোটের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হার জানাবে ইসি

আগামী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণ হবে। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট স্থগিত রয়েছে। ভোট উপলক্ষে বুধবার ও ভোটের দিন বৃহস্পতিবার সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে ৫১টি। এর মধ্যে বিএনপি সবচেয়ে বেশি, ২৯১ জন প্রার্থী নিয়ে মাঠে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও শেষ দিন পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। দেশি পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকছেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক।

আরও পড়ুন: ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ

সারা দেশে ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজারের বেশি। বুথ রয়েছে প্রায় আড়াই লাখ। ভোটাররা এবার দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন- একটি সংসদ নির্বাচনের জন্য, অন্যটি সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন বা ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের পক্ষে-বিপক্ষে।

নির্বাচনী নিরাপত্তায় থাকছেন প্রায় ১০ লাখ সদস্য। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসার ও ভিডিপির পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে থাকবেন ভোটের পরদিন পর্যন্ত। উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী এবং সীমান্ত এলাকায় ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড দিয়ে টহল জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচন উপলক্ষে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে মঙ্গলবার রাত থেকে। অন্যান্য যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত।

শেষ দিনের প্রচারণায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিল উত্তাপ। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকার একাধিক আসনে পথসভায় অংশ নিয়ে রাতে টেলিভিশনে ভাষণ দেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা শেষে বিটিভিতে ভাষণ দেন।

ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, বগুড়া ও কক্সবাজারসহ প্রায় সব বিভাগেই ছিল শেষ দিনের গণসংযোগ, মিছিল ও জনসভা। কোথাও কোথাও উত্তেজনা থাকলেও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

প্রচারের কোলাহল থেমে এখন দৃশ্যত নীরব নির্বাচনী মাঠ। তবে এই নীরবতার আড়ালেই চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। সব প্রস্তুতির পর দেশজুড়ে এখন একটাই অপেক্ষা- ভোটের দিন।