নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা: পাঁচ জেলায় আগুন, বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বান্দরবান, নেত্রকোনা, ঝালকাঠির রাজাপুর, রাজশাহীর বাগমারা ও পটুয়াখালীতে বিএনপি, জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের নির্বাচনি ক্যাম্প ও ভোটকেন্দ্রে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
আগুন দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের মাঠে জনসমর্থন দেখে একটি পক্ষ আতঙ্কিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তারা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, তাদের কর্মীদের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও ক্যাম্পে আগুন দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দুমকির ভোটকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের চেষ্টা, দুই কিশোরের তৎপরতায় বড় ক্ষতি রক্ষা
নেত্রকোনা
নেত্রকোনা সদর উপজেলার চারটি ভোটকেন্দ্রে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। সোমবার রাত দেড়টার দিকে পারলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে লাইট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বামনমোহা ও দরিজাগি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও আগুন দেওয়া হয়। স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
আরও পড়ুন: বরিশালে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে দুই প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ
ঝালকাঠির রাজাপুর
রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের আমতলা বাজারে জামায়াতে ইসলামীর একটি পুরোনো কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের উপজেলা আমির মাওলানা কবির হোসেন এ ঘটনার নিন্দা জানান।
বান্দরবান
বান্দরবান শহরের হাফেজঘোনা এলাকায় বিএনপির একটি অস্থায়ী নির্বাচনি প্রচারণা অফিসে গভীর রাতে আগুন দেওয়া হয়। এতে ব্যানার, পোস্টারসহ প্রচারণা সামগ্রী পুড়ে যায়।
রাজশাহীর বাগমারা
বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের রামরামা জলপাইতলা এলাকায় জামায়াতের রাজশাহী-৪ আসনের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদারের নির্বাচনি ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ করা হয়। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় বড় ক্ষতি হয়নি।
পটুয়াখালী
দশমিনা উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নির্বাচনি অফিসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগুনে পাশের একটি ওষুধের দোকান ও মুদি দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সংঘর্ষ ও উত্তেজনা
বগুড়ার নন্দীগ্রাম, পটুয়াখালীর বাউফল এবং পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। কোথাও কোথাও পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
নির্বাচনকে ঘিরে একের পর এক সহিংসতার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।





