আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ

নিখোঁজদের তালিকা প্রকাশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সংস্কারের দাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৩৯ অপরাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৩:২৯ পূর্বাহ্ন, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বব্যাপী গুম ও জোরপূর্বক নিখোঁজের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিনটি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এক বিবৃতিতে গুম-সংস্কৃতির চূড়ান্ত অবসান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার হিসেবে গুমের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এ সময়ে বিএনপি-জামায়াত ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন।”

আরও পড়ুন: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাহমুদ উল্লাহ’র মৃত্যুতে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর শোক

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ বছরে অন্তত ৬২৯ জন গুম হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৫৩ জনের এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি। এসব ঘটনার সঙ্গে র‌্যাব, ডিবি, ডিজিএফআই, এনএসআইসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমনকি বহুল সমালোচিত ‘আয়নাঘর’ ও গোপন বন্দিশালার অস্তিত্বও ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল গুমের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা। যদিও ‘গুম-সংক্রান্ত কমিশন’ গঠন করা হয়েছে, তবু এ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। সংগঠনটির মতে, এ ব্যর্থতা কেবল জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী নয়, বরং এটি শহীদদের রক্তের প্রতি অবমাননা।

আরও পড়ুন: জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার সংঘর্ষের নেপথ্যে কী

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন দফা দাবি:

১. সকল নিখোঁজ ব্যক্তিকে অবিলম্বে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।

২. গত দেড় দশকের গুম-সংক্রান্ত ঘটনায় জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তালিকা প্রকাশ, বিচার নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সংস্কার।

৩. দেশের অবশিষ্ট ‘আয়নাঘর’, টর্চার সেল ও গোপন বন্দিশালা চিহ্নিত করে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা।