নুরকে পিটানোর ঘটনায় রাজনৈতিক নতুন অস্থিরতা
জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার সংঘর্ষের নেপথ্যে কী

ঢাকায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার রাতের সহিংসতার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার সন্ধ্যার দিকে আবার সেখানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কার্যালয়টিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কার্যালয়ের সামনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন আছে। তবে কারা হামলাটি করেছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: কৃষিতে অতিরিক্ত বালাইনাশকে হাওরের মৎস্য সম্পদ হুমকিতে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
ঢাকার বাইরে আজ টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, রাজশাহীসহ বেশ কয়েকটি জেলায় জাতীয় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
এদিকে, শুক্রবার রাতে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষকে ঘিরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের মারধরে আহত নুরুল হক নুর ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদ নেতা মি. নুর এখনো পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত নন।
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ১৬০৪ সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন হয়েছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান সাংবাদিকদের বলেন, জ্ঞান ফিরলেও এখনো নুর শঙ্কামুক্ত নন। তার মাথার ভেতরে পানি জমাট বেঁধেছে।
সেনাবাহিনী ও পুলিশের হামলায় নুর আহত হওয়ার পর গত রাত থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করতে দেখা গেছে।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার পর শুক্রবার রাতেই আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল- “জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগে বাধ্য হয়”।
তবে, সেনাবাহিনীর এই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাখ্যান করে গণঅধিকার পরিষদ বলেছে যে, সেনাবাহিনী জাতীয় পার্টিকে সুরক্ষা দিতেই নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেছেন, “নূরের ওপর সেনাবাহিনীর কতিপয় দুষ্কৃতিকারী হামলা চালিয়েছে। ডিজিএফআইয়ের সাথে জাতীয় পার্টির দেন দরবার চলছে। জাতীয় পার্টিকে ডিজিএফআই আগামীতে বিরোধী দল বানাতে চায়”।
তবে, সেনাবাহিনী ও পুলিশের হামলা মি. নুর আহত হওয়ার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
হাসপাতালে চিকিৎসারত নুরের সাথে শনিবার দুপুরে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
এই ঘটনায় হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনও করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
ওই সময়ের হামলার ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ছে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নুরের ওপর হামলা ঘিরে রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ।
বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বিবিসি বাংলাকে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে ব্যহত করার জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থির করার জন্য একটা মহল কাজ করছে”।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনীতিতে বেশ কোণঠাসা অবস্থায় ছিল জাতীয় পার্টি।
গত এক বছরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, এমনকি জাতীয় পার্টি অফিসে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার হঠাৎ পরিস্থিতি কেন এমন হলো সেই প্রশ্নও সামনে আছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সেনাবাহিনী ও পুলিশের মারধরে আহত হওয়ার পর শনিবার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে নুরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সরকারের কাছে ঘটনার আইনসম্মত তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।
দুপুরে নুরের দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
সেখান থেকে বেরিয়ে বিএনপি নেতা মি. খান বলেন, “এভাবে হামলার ঘটনা দেশের মানুষ মেনে নিতে পারে না, মেনে নেবে না। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই। এই অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত চাই”।
নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের সেনাবাহিনী ও পুলিশের হামলার ঘটনায় শনিবার ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে এ কর্মসূচি থেকে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান দলটির নেতারা।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এভাবে একটা দলের প্রধানকে নির্মমভাবে আঘাত করা হলো, তার সাথে ৫০ জন আহত হলো। এগুলো তো মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই”।
এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি।
এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বিবৃতিতে দলটির মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, “নুরের মতো একজন ফ্যাসিবাদ বিরোধী নেতাকে রাস্তায় লাঠিপেটা করা স্পষ্টত জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি”।
বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি টেলিফোনে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
শনিবার দুপুরে এক বিবৃতিতে নুরকে আহত করার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, “কেবল নুরুল হক নূরের ওপরই নয়, এই ধরনের সহিংসতা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ঐতিহাসিক সংগ্রামে জাতিকে একত্রিত করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্পিরিটের ওপরেও আঘাত বলে মনে করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার”।
সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের জনগণকে আশ্বস্ত করছে যে, এই নৃশংস ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে সম্পন্ন করা হবে। প্রভাব বা পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, জড়িত কোনো ব্যক্তি জবাবদিহিতা থেকে রেহাই পাবে না। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সাথে এর বিচার সম্পন্ন করা হবে”।
বিবৃতিতে সরকার জানিয়েছে, নূর এবং তাঁর দলের অন্যান্য আহত সদস্যদের চিকিৎসা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাঁদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রয়োজনে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে পাঠানো হবে।
এদিকে, এই ঘটনায় একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার।
শনিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, “হাইকোর্টের একজন বিচারপতিকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করবে এবং দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করবে”।
জাপা-গণঅধিকার সংঘর্ষের নেপথ্যে কী?
শুক্রবার রাতে ঢাকার কাকরাইল এলাকায় জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষ হয়।
মূলত সেই সংঘর্ষকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক দফায় চেষ্টা চালায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের মারধরে আহত হন নুরুল হক নুরসহ দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন শুক্রবার রাতে বিবিসি বাংলাকে জানান, ওইদিন জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। এ সময় আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।
আর জাতীয় পার্টির অভিযোগ, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা তাদের অফিসে আগুন দিতে চেয়েছিল যেখান থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার জাতীয় পাটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “কাল রাত সাড়ে সাতটার দিকে ঘোষণা দিয়ে আমাদের পার্টি অফিসের দিকে আসার চেষ্টা করা হয়। তখন পুলিশ সেটা ঠেকায়। আমাদের চোখের সামনে তাদেরকে আহত করার চেষ্টা হয়। তখন সেনাবাহিনী আসে”।
তিনি বলেন, “এরপর আমি শুনেছি ওখানে সেনাবাহিনীর ওপরও তারা (গণঅধিকার পরিষদেরে নেতাকর্মীরা) আঘাত করে, সেনাবাহিনীর ওপর মশাল ছুড়ে মারে। তখন সেনাবাহিনী ও পুলিশ লাঠি চার্জ করতে করতে নুরুদের অফিসের সামনে যায়”।
তবে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে রাজনৈতিক এই সংকট বেশ কিছুদিন থেকেই চলছে।
শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর গত বছরের অক্টোবরের শেষে জাতীয় পার্টির কাকরাইল কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়।
সে সময় গণঅধিকার পরিষদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছিল।
এরপর এ বছরের মে মাসে রংপুরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের রংপুরের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ডাকে জাতীয় পার্টি।
এই মিছিলে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই দলের বেশ বেশ কয়েকজন আহতও হয়।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমাদের ওপর হামলার পর দুই দলটি পাল্টাপাল্টি মামলা করেছিল। কিন্ত পরে আমরা দেখি নুরদের বিরুদ্ধে যে মামলাটা সেটা স্থিমিত হয়ে যায়। প্রশাসনে সেখান থেকেও একটা আদেশ আসছে বলে আমরা শুনেছি”।
“কোনো ক্ষেত্রে আমরা আগ বাড়িয়ে আমরা কাউকে অ্যাটাক করি না। আমাদের যখন আঘাত করা হয়েছে। আমরা প্রতিরক্ষা করেছি বার বার”, বলছিলেন মি. পাটোয়ারী।
এই রাজনৈতিক বিরোধের বাইরেও মি. পাটোয়ারীর দাবি, জাতীয় পার্টির আরেক অংশের একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতার সাথে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরের সখ্য রয়েছে। ওই নেতার উসকানিতে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তবে গণঅধিকার পরিষদের অভিযোগ, জাতীয় পার্টিকে আগামী নির্বাচনে বিরোধী বানাতে চেষ্টা চালাচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থা।
শনিবার ঢাকা মেডিকেলের সামনে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, “আমরা লক্ষ্য করছি ডিজিএফআই টালবাহনা করে জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল বানানোর চক্রান্ত করছে। এই চক্রান্ত জনগণ রুখে দেবে”।
রাজনৈতিক অস্থিরতার শঙ্কা?
শুকবার রাতে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষ ও নুরুল হক নুরকে মারধরের ঘটনার সময় বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যম এই ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করছিল। সেই সব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েও পড়ে।
এই ঘটনা নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হতে থাকে। বিশেষ করে নুর গুরুত্বরভাবে জখম হওয়ার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবিসি বাংলাকে বলেন, “পরিস্থিতিকে অস্থির করার জন্য একটা মহল কাজ করছে। আমি ঠিক জানি না এক্সাক্টলি কারা এটা করছে। কিন্তু করা হচ্ছে এটা। এই ব্যাপারটা নিয়ে আমরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন”।
প্রায় একই ধরনের শঙ্কার কথা বলছে জামায়াতে ইসলামীও। এটিকে শুধু দুটি দলের মধ্যে সংঘাত বা ঘটনাক্রমে নুর আহত হয়েছে বলেও মনে করছেন না দলটি।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এটা যে এ্যাক্সিডেন্টাল ঘটনা সেটাও মনে হচ্ছে না। একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটের দিকে যাচ্ছে মনে হয়। কে বা কারা এর পেছনে ইন্ধন যোগাচ্ছে”।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন থেকে। এই নির্বাচন পেছানোর জন্যও ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে এমন আশঙ্কার কথাও কেউ কেউ জানিয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনায় ঠিক নির্বাচন পেছানোর মতো কোন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “শুক্রবারের ঘটনায় নানা রকম উসকানি আছে, এটা নিয়ে একটা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নির্বাচনটা সময় মতো হবে কী হবে না। এই ধরনের পরিস্থিতি ঘোলা করে নানা রকমের সুবিধা নিয়ে যারা লাভবান হয় তারা এগুলো করে”।
তার মতে, কিছু রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা গোয়েন্দা সংস্থাও মাঝে মাঝে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে। এবং কাকরাইলে গণঅধিকার ও জাতীয় পার্টির সংঘর্ষের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
তাহলে কী, এমন পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন পেছানো বা নির্বাচন নিয়ে কোন জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে? এই প্রশ্নে মি. আহমদ বলছেন, এই ঘটনা রাজনীতি বা আগামী নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
শুক্রবার রাতের ওই ঘটনার পর রোববার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সাথে বৈঠক ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা।