হাম প্রতিরোধে বাদ পড়া শিশুদের জন্য ফের টিকাদান ক্যাম্পেইন

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৫ অপরাহ্ন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে রোগটি প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চলতি মাসের শেষদিকে পূর্ণাঙ্গভাবে আরও একটি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: দাপ্তরিক গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে বিএসএফআইসির প্রশিক্ষণ কর্মশালা

তিনি বলেন, আগের টিকাদান কর্মসূচিতে বিভিন্ন কারণে কিছু শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। অনেক মা পরবর্তী সময়ে টিকা দেওয়ার বিষয়ে আর খবর পাননি। কেউ কাজের ব্যস্ততার কারণে সন্তানকে নিয়ে আসতে পারেননি, আবার কোনো কোনো শিশু স্কুলে থাকায় টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এভাবে বেশ কিছু শিশু টিকাদান কার্যক্রমের বাইরে থেকে যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার। তবে শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নতুন করে আরও শিশু যুক্ত হওয়ায় টিকাদানে কিছুটা ঘাটতি থেকে যায়। আর টিকা না পাওয়া শিশুদের একটি অংশের মধ্যে বর্তমানে হাম শনাক্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: তিন বছরে বন্ধ চার শতাধিক গার্মেন্টস, তৈরি হচ্ছে তালিকা: বাণিজ্যমন্ত্রী

এ পরিস্থিতিতে মপ-আপ ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মূল ক্যাম্পেইন ২০ মে শেষ হওয়ার পরদিন থেকেই মপ-আপ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সিলেটেও লক্ষ্যমাত্রার বাইরে ৩ হাজারের বেশি শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষদিকে আবারও পূর্ণাঙ্গ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সিলেটের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকাগুলোতে টিকা পৌঁছাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বান্দরবানেও টিকা কিছুটা কম পৌঁছেছিল। পরে সেখানে দ্রুত টিকা পাঠিয়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হয়েছে। সিলেটের সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করে আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় মূল ক্যাম্পেইনের আগে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গ্রামাঞ্চলে অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার ভাষ্য, প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ ক্লিনিক ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা এবং সিলগালা করা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে লেবার রুম নেই, সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কোথাও কোথাও অবৈধ চিকিৎসক, ভুয়া সনদধারী ব্যক্তি ও অননুমোদিত টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার করানোর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে তিনি ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। তার পরিদর্শন করা প্রায় সব হাসপাতালেই চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

রোগীদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শন শুরু করার পর চিকিৎসকদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে রোগীরা তাকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের খাবারের মানও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে এবং অনেক হাসপাতালে পোকামাকড় ও তেলাপোকার সমস্যাও কমেছে।

তবে যেসব হাসপাতালে এখনো সমস্যা রয়েছে, সেগুলো আগামী সাত দিনের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাবারের মান ও হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।