কেন হঠাৎ উপদেষ্টাদের ‘সেফ এক্সিট’ প্রসঙ্গ তুললেন এনসিপি নেতারা?

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৩৯ পূর্বাহ্ন, ০৯ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ৮:৪৭ অপরাহ্ন, ০৯ অক্টোবর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা ‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দুই নেতার এমন অভিযোগে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। পরে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও এক সভায় একই ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন। 

নাহিদ ইসলামের টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ‘সেফ এক্সিট’-এর প্রসঙ্গ তোলার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। অনেকে এটিকে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরকার অসন্তোষ বা মতবিরোধের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুন: মারা গেছেন সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ

গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁদের মধ্য থেকেই তিনজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান, যার একজন ছিলেন নাহিদ ইসলাম। কিন্তু এক বছরের মাথায় কেন উপদেষ্টাদের ‘নিরাপদ প্রস্থান’ প্রসঙ্গ তোলা হলো এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে।

এ বিষয়ে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “উপদেষ্টাদের ‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলমের বক্তব্যই দলের সামগ্রিক অবস্থান। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিচার ও সংস্কার ছিল গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু কিছু উপদেষ্টা তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে এখন দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন।”

আরও পড়ুন: ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি আবদুস সাদেকের মৃত্যুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর শোক

তবে নাহিদ ইসলাম বা সারজিস আলম কেউই কোনো নির্দিষ্ট উপদেষ্টার নাম উল্লেখ করেননি। বিবিসি বাংলা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা সাড়া দেননি।

এদিকে, বুধবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “নাহিদ ইসলামের বক্তব্য যদি নির্দিষ্ট হতো, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া দেওয়া যেত। কিন্তু এখানে তো সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উপদেষ্টাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা একটি কারণ হতে পারে। তবে ‘সেফ এক্সিট’-এর বিষয়টি আসলে সরকারের ভেতরকার অনিশ্চয়তা ও অনিয়মতান্ত্রিক পরিবর্তনের আশঙ্কার দিকেই ইঙ্গিত করছে।