বালু মহালের সাবেক ইজারাদার আ'লীগ নেতা রতন গ্রেফতার

Sadek Ali
মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৫০ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৪:০০ পূর্বাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর যাদুকাটা পাথর মিশ্রিত বালু মহাল ও বিআইডব্লিউটি এর সাবেক দুইবারের ইজারাদার ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ নেতা মো রতন মিয়া (৪৫)কে গ্রেফতার করেছে ঢাকার মিরপুর শাহ আলী থানা পুলিশ।

বুধবার (২৭ আগস্ট) রাত অনুমান পৌনে ১২ টায় মিরপুর এলাকাবাসী রতন মিয়াকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে মিরপুর থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে শিক্ষার্থী মায়মুনা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার মূল আসামী আপন ফুফা

ইজারাদার রতন মিয়াকে গত বছরের ৪ঠা আগস্ট সুনামগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনরত ছাত্র জনতার উপর হামলার ঘটনায় সুনামগঞ্জের আদালতে দায়েরকৃত দ্রুতবিচার আইনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মিরপুর শাহ আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম আজম।

এদিকে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার নিয়মিত মামলার আসামী রতন মিয়ার গ্রেফতারের সংবাদে বুধবার রাতেই সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আরিফ উল্লাহর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন বলে নিশ্চিত করেন সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল কালাম।

আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০ জন

এদিকে দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর সাবেক এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও এমপি রনজিত সরকারের দোসর হয়ে প্রভাবখাটিয়ে ইজারাদার রতন মিয়া গং ও খোরশেদ মিয়া-ফেরদৌস আখঞ্জি ১০৮ কোটি টাকার যাদুকাটা বালু মহাল মাত্র ৩২ কোটি টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর নদীর রয়েলটি,টোলটেক্স সহ সরকার ছিল রাজস্ব বঞ্চিত। কিন্তু এবছর যাদুকাটা বালু মহালের সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ি শাহ রুবেল আহমেদ ও নাছির উদ্দীন। সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব গ্রহন করায় সরকারের বিরুদ্ধেও অপ-প্রচার সহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে রতন। সে ইজারাদার না হয়েও তার লোকজন এখনও নদীতে রাতের আধারে বালু-পাথর উত্তোলন করছে। এই নেতা সরকারের বিরুদ্ধে করা মামলার কারণে ৪/৫ টি উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি হারিয়েছে কর্মসংস্থান।  উচ্চ আদালতে করা রীটের কারণে দীর্ঘ প্রায় ৫ মাস যাবৎ নদী বন্ধ থাকায় নৌ-শ্রমিকরা মানববেতর জিবন যাপন করছেন। তাই এই নেতার গ্রেফতারের খবরে

তার বিপক্ষে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে সুনামগঞ্জে। 

উচ্চ আদালতে দায়ের করা বালু মহালের মামলায় বিগত ২৫ জুন ২০২৫ ইং তারিখে যাদুকাটা বালু মহালের সবোচ্চ দরদাতা ইজারাদার নাসির উদ্দীন আদালতে যাওয়ার পথে মধ্যে 

রতন মিয়া,খোরশেদ আলম,ফেরদৌস আলমের অদৃশ্য ইশারায় তার উপর হামলার ঘটনা ঘটে। রতন মিয়া,ফেরদৌস,খোরশেদ আলম গংরা তাদের ফেইসবুক পোস্টে 

ইজারাদার শাহ রুবেল আহমেদ ও নাসির উদ্দীনকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।

জানা যায়,বিগত ৪ মাস পূর্বে যাদুকাটা নদীর বালি লুটতরাজ,নদীর তীর কাটাসহ বিভিন্ন অভিযোগে কিছু সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় অভিযোগ উত্থাপন করলে উক্ত ইজারাদার রতন মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে ঐ গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের প্রায় ২৫ জন প্রতিপক্ষ সাংবাদিককে মোটা অংকের টাকায় বাধ্য বশীভূত করে নানাভাবে বেকায়দায় ফেলার পাশাপাশি খুন করানোর চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত কালো টাকার মালিক মুকুটবিহীন সম্রাট মো রতন মিয়া  থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন।