শেরপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানি সংকট

Sanchoy Biswas
রাকিবুল আওয়াল পাপুল, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ন, ২৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৬:৩৪ অপরাহ্ন, ২৫ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য এখনও নিশ্চিত করা যায়নি সুপেয় পানির ব্যবস্থা। বছরের শুষ্ক মৌসুমে এসব এলাকার মানুষ খাবার পানির অভাবে ভোগেন। বিশুদ্ধ পানি না পেয়ে বাধ্য হয়েই পুকুর, ঝর্ণা ও কুয়ার পানি ব্যবহার করেন স্থানীয়রা। একইভাবে পানির অভাবে ব্যাহত হয় সেচকাজ, ফলে ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরাও। বছরের পর বছর এমন সংকট থাকলেও সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি বাড়িতে টিউবওয়েল থাকলেও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর শুষ্ক মৌসুমে ১০০ থেকে ১২০ ফুট নিচে নেমে যায়। ফলে দেখা দেয় তীব্র পানির সংকট। সাধারণ টিউবওয়েলে আর পানি থাকে না। তবে বিত্তশালীরা সাবমার্সিবল পাম্প ব্যবহার করে পানির প্রয়োজনীয়তা মেটান।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় গণহত্যা দিবস উদযাপন

শ্রীবরদী উপজেলার মালাকোচা, টিলাপাড়া, বালিজুড়ি, বিলভরাট, অফিসপাড়া, খ্রিস্টানপাড়া, মেঘাদল, মাটিফাটা, হারিয়াকোনা, বাবেলাকোনা। ঝিনাইগাতী উপজেলার তাওয়াকুচা, পানবর, গুরুচরণ দুধনই, ছোট গজনী, বড় গজনী, গান্ধিগাঁও, বাকাকুড়া, হালচাটী, নওকুচি, ধানশাইল, নলকুড়া, গৌরীপুর, নালিতাবাড়ী উপজেলার গারোপাড়া, বাতকুচি, টিলাপাড়া, লক্ষ্মীকুড়া, পূর্ব সমেশ্চুড়া এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রায় ১০০-১২০ ফুট নিচে নেমে যায়। ফলে ওইসব এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেয় শুষ্ক মৌসুমে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচি এলাকার নৃগোষ্ঠীর গৃহিণী সিলভী রাণী কোচ বলেন, শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় মেম্বার-চেয়ারম্যানরা পানির সমস্যা সমাধান করে দিতে চান, কিন্তু নির্বাচন চলে গেলে কেউ আর খোঁজ রাখেন না। আমাদের ১৫টি বাড়ির জন্য একটি টিউবওয়েল দিলেও চলে। তাছাড়া শুষ্ক মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়া যায় না।

আরও পড়ুন: শ্রীপুরে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে কচি কাঁঠাল, সপ্তাহ খানেকের মধ্যে মিলবে পরিপক্ক কাঁঠাল

শ্রীবরদী উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের মালাকোচা গ্রামের কৃষক সোহেল রানা বলেন, “অনেকে তো কয়—সরকার পানির ব্যবস্থা কইরা দিব, কিন্তু কেউই তো আজ পর্যন্ত আমাদের খোঁজও নিল না। আমরা পুকুরের পঁচা পানি খাইয়া রোগ-বিরোগে ভুগতেছি, কেউ তো দেখতে আসে না। এইটা কোনো কথা হইলো? আমরা গভীর মোটর (সাবমার্সিবল পাম্প) চাই।”

বেসরকারি সংস্থা এসএইচআরএস এসব অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি নিয়ে কাজ করে। তারা বলছে, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ কোনো না কোনোভাবে সুপেয় পানির অভাবে ভুগছেন। তবে এ নিয়ে সরকারের বড় কোনো পরিকল্পনা এলাকায় নেই।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তথ্যমতে, শুষ্ক মৌসুমে সীমান্তবর্তী এসব এলাকার শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় ওইসব এলাকায় বসবাসকারী মানুষজনের।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি জনপদে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানির সংকট হয়। বিষয়টি জরিপ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবগত করা হবে।