৪৮তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতি নিবেদিত কাব্য

Sanchoy Biswas
মমিনুল ইসলাম
প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহ্ন, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৮ অপরাহ্ন, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

 "মুক্তির সোপান ও গণজাগরী অভিযাত্রা"

​প্রথম সর্গ: জন্মলগ্নের প্রেক্ষাপট ও ঊষালগ্ন

​১৯৭৮ সালের সেই সেপ্টেম্বরের ভোরে,

আরও পড়ুন: গীতিকবি হিসেবে বাচসাস সম্মাননা পেলেন রিজভী

রমনার বটমূলে, ইতিহাসের এক নতুন প্রান্তরে,

ঝড়-ঝঞ্জা পেরিয়ে একদল নির্ভীক প্রাণ,

আরও পড়ুন: ঢাকার মঞ্চে আসছে পাওলো কোয়েলহোর ‘দ্য আলকেমিস্ট’

গেয়ে উঠেছিল স্বদেশের সাম্য ও মুক্তির গান।

চারিদিকে তখনো শঙ্কা আর অবিশ্বাসের ঘোর,

পরাজয়ের গ্লানি মুছে আনতেই হবে সোনালী ভোর—

এই প্রত্যয়ে বলীয়ান হয়ে, দূরদর্শী হাতখানি,

রেখেছিলেন রণাঙ্গনের বীর, যার নামে বাজে ধ্বনি।  

​তিনি তো জিয়াউর রহমান, ইতিহাসের মহানায়ক,

যিনি সংকটকালে হয়ে ওঠেন জাতির সুদৃঢ়ায়ক।

বহুদলীয় গণতন্ত্রের বীজ বুনে মাটি উর্বর করে,

গড়ে তুললেন দল— যা আজো কোটি জনতার অন্তরে।

উনিশ দফার স্বপ্ন দিয়ে গড়া হলো যে কাফেলা,

সে তো নয় কোনো সাময়িক কুয়াশার খেলা;

সে ছিল এক স্বনির্ভর বাংলাদেশের ইস্পাত কঠিন প্রত্যয়,

যেখানে জনতার শক্তিতে লেখা হবে চিরন্তন জয়।  

​দ্বিতীয় সর্গ: আপসহীন সংগ্রাম ও গণতন্ত্রের পথচলা

​সময় গড়ায়, পেছনের ইতিহাস রক্তে ভেজা,

নেতৃত্বের মুকুট পরে এলেন এক অবলা তেজা।

যিনি শোকে পাথর হয়েও চিনেছিলেন আঁধার রজনী,

তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আপসহীন স্বরধ্বনি।

স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু, কারারুদ্ধ দিনরাত্রি—

কোনো কিছু ফাটল ধরাতে পারেনি তার প্রত্যয়ে যাত্রী।

তিনি শিখিয়েছেন রাজপথের আন্দোলন মানে হাঁটু না গেড়ে দাঁড়ানো,

স্বৈরাচারের প্রাসাদে ত্রাসের ঢেউ তুলে শিকল ভাঙানো।  

​নব্বইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান, রাজপথ প্রকম্পিত স্লোগানে,

ছাত্র-জনতার রক্তে রাঙা মিছিলে আর প্রাণের টানে,

মুক্ত হলো গণতন্ত্র, স্বৈরাচার হলো অবসান,

বিএনপি তখনো গেয়ে গেছে বিজয়ের অম্লান গান।

কখনো বিরোধী দলে থেকে জনস্বার্থের প্রহরী,

কখনো বা সরকারে এসে উন্নয়নের তুলি ধরি—

দেশ ও মানুষের কল্যাণে গড়া হলো যত ইমারত,

জনগণের আস্থাই ছিল যার মূল দলিল ও আমানত।  

​তৃতীয় সর্গ: দীর্ঘ প্রবাস, ত্যাগ এবং নতুন সূর্যোদয়

​অতঃপর নেমে এলো দীর্ঘ এক অমানিশার কালো ছায়া,

ফ্যাসিবাদী থাবায় হারিয়ে গেল চেনা চত্বর ও মায়া।

ষড়যন্ত্রের ঘূর্ণিপাকে কেটে গেল সতেরোটি বছর প্রবাসের বেদনায়,

তবু দমে যায়নি কর্মীরা, জ্বলেছে আগুন বুক চিরে যন্ত্রণায়।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী ইশারা,

পথে প্রান্তরে ছড়িয়ে দিল এক নতুন জাগরণের ধারা।

সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে ধাপে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর,

মিছিলের পর মিছিল হয়েছে প্রকম্পিত নগর-বন্দর।  

​অবশেষে এল সেই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের বেলা,

যেখানে তরুণ ছাত্র-জনতা ভেঙে দিল জুলুমের খেলা।

ফ্যাসিস্টের পলায়ন ঘটিয়ে লাল-সবুজের পতাকা উচল,

মুক্ত বাতাসে আবার ফিরল লাখো জনতার কোলাহল।

দীর্ঘ প্রবাসের আঁধার ফুঁড়ে বীরের বেশে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন,

তারেক রহমানের হাত ধরে আজ নতুন দিনের জয়গান।

দেশবাসীর ভোটে আজ গণতন্ত্রের নতুন প্রভাত,

জনগণের সেবায় নিয়োজিত এখন প্রতিটি দিন ও রাত।  

​চতুর্থ সর্গ: ৪৮ বছরের সাফল্য ও আগামীর প্রতিজ্ঞা

​আজ বিএনপি পার করল আটচল্লিশটি বছর,

কত শহীদের রক্তে ভেজা এই রাজনৈতিক সফর।

কত নেতা হারিয়েছেন প্রাণ, কত কর্মী খেয়েছে মার,

তবু ত্যাগের বাতিঘর আজো জ্বলছে প্রদীপ্ত মাজার।

সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বাণী,

আজো প্রতিটি কর্মীর হৃদয়ে বাজে বিজয়ের রাগিণী।  

​আটচল্লিশের এই শুভলগ্নে দাঁড়িয়ে পেছনে তাকাই,

শহীদের রক্তঋণ পরিশোধের পথ খুঁজে পাই।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল— শুধু একটি নাম নয়,

এ হলো এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জয়।

যত দিন রবে এ বাংলায় নদী আর ঐ প্রান্তর,

তত দিন বেঁচে রবে বিএনপি— কোটি জনতার অন্তর।  

​শুভ জন্মদিন, হে সংগ্রামের অদম্য ঠিকানা!

তোমার দীপ্তিতে মুছে যাক সব গ্লানি ও সীমানা।

চলুক অভিযাত্রা অবিরাম, সাম্য ও ন্যায়ের পথে,

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ধ্বনিত হোক বিশ্বজুড়ে সাথে সাথে!


লেখক মমিনুল ইসলাম সাংবাদিক কলামিস্ট। 

সভাপতি উলিপুর রিপোর্টাস ইউনিটি।