৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার ফাইল প্রেরণে বিলম্ব: ক্ষোভ বাড়ছে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৪২ অপরাহ্ন, ১৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ৬:৩৩ অপরাহ্ন, ১৮ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার প্রার্থীদের ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণে বিলম্ব হওয়ায় অসন্তোষ ও উদ্বেগ বাড়ছে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এখনো ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠায়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা।

প্রার্থীদের দাবি, চলতি বছরের ৭ মে ২০২৬ তারিখে পিএসসি কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। ওই কর্মসূচিতে তারা দ্রুত ফাইল প্রেরণসহ নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। একই দিনে পিএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে, মে মাসের মধ্যভাগের মধ্যেই ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন: ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ প্রার্থীদের। তাদের মতে, ফাইল এখনও পিএসসিতেই “প্রসেসিং” অবস্থায় রয়েছে। এর আগেও একই ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল, যা তারা সন্তোষজনক মনে করছেন না।

চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডারের ফল প্রকাশ করে পিএসসি, যেখানে প্রায় ২,৯৬৮ জন প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তবে এখনো পর্যন্ত তাদের ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ না হওয়ায় পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিকেল পরীক্ষা এবং গেজেট প্রকাশসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো শুরু করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, পদোন্নতিতে আর্থিক চুক্তি নিয়ে প্রতারণা

প্রার্থীরা বলছেন, সাধারণত ফল প্রকাশের ১৫ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যেই এসব ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ বিলম্বের কারণে সিনিয়রিটি (জ্যেষ্ঠতা) জটিলতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। তাদের আরও দাবি, ইতোমধ্যে ৪৫তম বিসিএস নন-ক্যাডারের মেডিকেল পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হলেও ৪৪তম বিসিএসের কার্যক্রম পিছিয়ে থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান এর আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশেষ করে টেকনিক্যাল নন-ক্যাডার পদগুলোর তথ্য যাচাইয়ে সময় লাগছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যাচাই শেষে দ্রুত ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছিল।

তবে সেই আশ্বাসের পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর অগ্রগতি না থাকায় প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা জানিয়েছেন, দ্রুত সমাধান না হলে তারা আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

উল্লেখ্য, ৪৪তম বিসিএস প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ সময় ধরে চলমান। ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। প্রিলিমিনারি ফল প্রকাশিত হয় ২০২২ সালের জুনে এবং লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারির মধ্যে। লিখিত ফল প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে একাধিক সংশোধনের পর ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি নন-ক্যাডার সুপারিশ প্রকাশ করা হয়।