শেখ হাসিনা ভারত থেকে ষড়যন্ত্র করছে: রুহুল কবির রিজভী

Sanchoy Biswas
আশরাফ হোসেন রাজা, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)
প্রকাশিত: ৯:৩৬ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৯:৩৬ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আরেকজন তো বসে আছে, পাশ্ববর্তী দেশে। এস আলমকে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন। দেশের অভ্যন্তরে অন্তর্ঘাত ও নাশকতার চেষ্টা করবেন। তিনি এখন দেশে নেই, তাই এস আলম আড়াই হাজার কোটি টাকা দেবেন। সামনে প্রয়োজন হলে আরও টাকা দেবেন। শেখ হাসিনা আবার দুর্বৃত্তের শাসন ফিরে পেতে চান। তিনি এখন ক্ষমতা ফিরিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

ভারতে যারা বাংলাদেশি মুসলমান তাদেরকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনাকে তারা জামাই আদর করে পালছেন। শেখ হাসিনা ভিডিও করে নাশকতার বার্তা দিচ্ছেন। এটি দিল্লী সরকারের দ্বিচারিতা।

আরও পড়ুন: শেরপুরে শিক্ষার্থী মায়মুনা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার মূল আসামী আপন ফুফা

আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকালে দেওয়ানগঞ্জ গার্লস হাই স্কুল মাঠে দেওয়ানগঞ্জ-বকশিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আজকে অনেক বসন্তের কোকিলের আনাগোনা। যারা শেখ হাসিনার আমলে ঘর থেকে বের হয়নি, তারা এখন অফিস আদালতে মাতাব্বরি করছে। যারা সংগ্রাম করছে, যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তারা কখনও চাঁদাবাজ বা দখলবাজ হবে না। ঐ বসন্তের কোকিলরা নাম ভাঙিয়ে এসব করছে।

আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০ জন

তিনি আরও বলেন, আপনাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে। বসন্তের কোকিলরা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করবে। তারা যেন এসব করতে না পারে খেয়াল রাখবেন।

এখন বাজার ব্যবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল হয়েছে। দরিদ্র ও অতিদরিদ্র বেড়েছে। এটি শেখ হাসিনার শেষ সময়ে অতি লুটপাটের কারণে হয়েছে। এই সরকারকে আমরা সমর্থন দিচ্ছি, কিন্তু যদি অতিদরিদ্রের সংখ্যা বাড়তে থাকে, তাহলে জনগণ মুখ ফিরিয়ে নেবে। আয়ের চাইতে ব্যয় এখন অনেক বেশি হচ্ছে। আগামীকাল রোডম্যাপ দেওয়ার কথা। আগামীকাল আমরা তা দেখব। আগামী রোজার পূর্বেই নির্বাচন হবে, আশা করছি।

ভার্চ্যুয়ালিভাবে যুক্ত হয়ে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী এনি বলেন, আমার জরুরি কাজ থাকায় আমি যেতে পারিনি। সামনে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অনেক কঠিন লড়াই মোকাবিলা করতে হবে। ঐক্যের মাধ্যমেই আমরা বিএনপির হাতকে শক্তিশালী করব। ঐক্যবদ্ধ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানান তিনি।

বিএনপি মিডিয়া সেলের আহবায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের দল। বাংলাদেশে একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের দল বিএনপি। কেউ ১৯৭১ সালে রাজাকার, কেউ ২০২৪ সালের রাজাকার। আর কয়েক মাস পরেই আমাদের কষ্ট শান্তি এনে দিতে পারে। স্বৈরাচারের দোসররা কিন্তু বসে নেই। তারা বলবে যে আপনাদের কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। মনে রাখতে হবে, রাজনীতির খেলা কিন্তু খুব ভয়ংকর। আমাদের দলে চাঁদাবাজদের কোন জায়গা নেই।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী এনি, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহবায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম ও সাধারণ সম্পাদক এড. ওয়ারেছ আলী মামুন।