সেবা মিলছে না কমিউনিটি ক্লিনিকে, ৮ মাস ধরে ঔষধ সরবরাহ বন্ধ

Sadek Ali
কাজী আফতাব হোসেন, নগরকান্দা
প্রকাশিত: ১২:২৭ অপরাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ১২:২৭ অপরাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে  চলছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। ওষুধ সংকট, সময় মত ক্লিনিকগুলো না খোলা, সিএইচপিদের (প্রোভাইডার) ইচ্ছামত ক্লিনিক আশা এবং জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর কারণে মিলছে না কাংখিত স্বাস্থ্য সেবা। তৃণমূলের বেহাল স্বাস্থ্য সেবায় হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষ ও সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে। গ্রামীন স্বাস্থ্য  ব্যবস্থায় সহজেই স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ২০০০ সাল থেকে সারাদেশে কমিউনিটি  ক্লিনিক চালু করা হয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এইসব কমিউনিটি ক্লিনিকে মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা হিসাবে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা, পরিবার পরিকল্পনা সেবা, টিকাদান কর্মসূচি,পুষ্টি, স্বাস্থ্যশিক্ষা, পরামর্শসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সেবা ও ঔষধ দেওয়ার কথা রয়েছে। 

কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ঔষধ সরবরাহ নেই, ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার স্টিকার নেই, নেই ২৭ ধরনের ঔষধের মধ্যে শুধু প্যারাসিটামল, আয়রন, ক্যালসিয়াম, মেট্রো ছাড়া বাকি ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না এসব ক্লিনিকে। 

আরও পড়ুন: শেরপুরে শিক্ষার্থী মায়মুনা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার মূল আসামী আপন ফুফা

শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে ৬ দিন একজন কমিউনিটি হেলকেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি) সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৩:০০ টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কিন্তু উল্টা চিত্র নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার বেশিরভাগ ক্লিনিকে। সেবা দেওয়ার কথা থাকলে বাস্তবে মিলছে না কাঙ্খিত সেবা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৭ টি ইউনিয়নে ৪২ টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। চাহিদার নিরিখে ও অঞ্চলভেদে ক্লিনিকগুলো স্থাপন করা হয়। 

আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০ জন

প্রতিটি ক্লিনিকে ২৭ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহের কথা থাকলেও দুই থেকে চারটি ঔষধ ছাড়া বাকি ওষুধ সরবরাহ না থাকায় দেওয়া যাচ্ছে না।  

তার মধ্যে ৮ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ না থাকায় ঢিলে তালে চলছে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। 

গত বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১২ঃ০০ টায় শহীদ নগর ইউনিয়নের ছাগলদি কমিউনিটি  ক্লিনিকে  গিয়ে দেখা যায়, তখনো ক্লিনিকে আসেননি সিএইচপি জেসমিন আক্তার। এর আগের দিন মঙ্গলবারও ক্লিনিকে ঝুলছে তালা। তিনি কখন ক্লিনিকে আসেন আর যান, তা কেউই বলতে পারেন না। নিজের ইচ্ছামত ক্লিনিকে আসা-যাওয়া করায় এই ক্লিনিকে সেবা পাওয়া তো দূরের কথা, স্বাস্থ্য সেবা কর্মীদেরই দেখা পান না স্থানীয়রা।  

ছাগলদি গ্রামের কৃষক রহিম মিয়া  বলেন,এই ক্লিনিকে কোন সেবা পাওয়া যায় না। এই ক্লিনিকের সিএসপি জেসমিন  আক্তার মাসে ৪-৫ বার ক্লিনিকে আসেন হাজিরা দিতে। ওষুধ চাইতে গেলে বলে, সাপ্লাই নেই। তিনি সঠিক তদারকির মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টের প্রতি অনুরোধ করেন।  

একই গ্রামের বাবুল মিয়া বলেন, ওষুধ না থাকায় এবং নিয়মিত ক্লিনিক না খোলায় অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সেবায়। 

স্থানীয় এক রোগী আজাদ মিয়া ওষুধ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আমরা গরীব মানুষ, আমরা এখানে এসে কোন সেবা ও ওষুধ পাই না। যেদিনই আসি প্রায়ই বন্ধ পাই, আর খোলা থাকলে ওষুধ থাকে না। এখন কি আর করা ওষুধ কিনেই খেতে হবে। "

রহিমা বেগম জানান, "ছয় মাস ধরে একটা দাউদের মলমের জন্য ঘুরছি, এখনো পাচ্ছিনা। "

শংকর পাশা  কমিউনিটি  ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ভবনে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন সিএইচপি তাহমিনা । ছাদের পলেস্ত্ররা খসে পড়ছে। বৃষ্টি হলে  দিয়ে পানি পড়ছে। মেজে ও দেওয়ালের ফাটল ধরেছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়, স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন সেবা নিচ্ছেন স্থানীয়রা। সিএইচপি তাহমিনা  বলেন, নিয়মিত ক্লিনিক খোলা হয়, এবং রোগীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা ও ঔষধ সরবর প্রদান করা হয়। অধিকাংশ ক্লিনিকি জরাজীর্ণ, ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে প্রোভাইডারদের। 

নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জয়দেব কুমার সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সারা দেশেই ক্লিনিকগুলোয় ঔষধের তীব্র সংকট চলছে। আমাদের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সঠিকভাবে তদারকি করা যাচ্ছে না। এসব ক্লিনিকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী সেবা নিয়ে থাকেন। ঔষধ সরবরাহ না থাকা এবং ক্লিনিকে সিএইচপি ও স্বাস্থ্য সহকারীদের অনুপস্থিতির কারণে রোগীদের সেবা প্রদানে বিঘ্ন ঘটছে। কিছুদিনের মধ্যেই এসব সমস্যা ও চিকিৎসা কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনতে আমাদের চেষ্টার অব্যাহত থাকবে।