কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক ৬টি মসলা, কী বলছে গবেষণা?

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২:৪৫ পূর্বাহ্ন, ২৪ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রান্নার স্বাদ, রং ও সুগন্ধ বাড়াতে মসলার ব্যবহার বহু পুরোনো। তবে শুধু খাবারের স্বাদই নয়, কিছু পরিচিত মসলা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, প্রদাহ কমানো এবং রক্তনালীর সুস্থতা বজায় রাখতে কিছু মসলার সম্ভাব্য ভূমিকার কথা জানিয়েছেন গবেষকেরা।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মসলাই উচ্চ কোলেস্টেরলের চিকিৎসার বিকল্প নয়। এগুলো কেবল একটি সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে উপকার করতে পারে।

আরও পড়ুন: খেয়েই বসে থাকবেন না! মাত্র ১০ মিনিট হাঁটলেই মিলতে পারে ৫টি বড় স্বাস্থ্য উপকার

কারেন্ট কার্ডিওলজি রিভিউস-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কিছু মসলায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিদজাত যৌগ প্রদাহ কমাতে, বিপাকক্রিয়া উন্নত করতে এবং রক্তনালীকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়ক হতে পারে।

১. রসুন

আরও পড়ুন: কাশি কমাতে লবঙ্গ কতটা কার্যকর? জানুন উপকারিতা ও ব্যবহারের ৪ সহজ উপায়

রসুন হৃদ্‌স্বাস্থ্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা হওয়া মসলাগুলোর একটি। এতে থাকা অ্যালিসিন নামের সালফার যৌগ মোট কোলেস্টেরল ও এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক হতে পারে।

জার্নাল অব হেলথ, পপুলেশন অ্যান্ড নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রসুন খাওয়া কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল কমাতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

২. হলুদ

হলুদের প্রধান সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। কমপ্লিমেন্টারি থেরাপিস ইন মেডিসিন-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, কারকিউমিন কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া প্রদাহ কমিয়ে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সহায়ক হতে পারে।

৩. দারুচিনি

দারুচিনিতে এমন কিছু প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে, যা রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এলডিএল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে গবেষণার ফল একরকম নয়, তাই চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

৪. আদা

আদায় থাকা জিঞ্জেরল ও শোগাওল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত।

বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আদা কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত করা, প্রদাহ কমানো এবং রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হতে পারে।

৫. মেথি

মেথিতে রয়েছে প্রচুর দ্রবণীয় আঁশ (Soluble Fiber), যা পরিপাকতন্ত্রে কোলেস্টেরলের শোষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ফাইটোমেডিসিন প্লাস-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, মেথি এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে এবং বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও বড় পরিসরের গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

৬. গোলমরিচ

গোলমরিচে থাকা পাইপেরিন হলুদের কারকিউমিনসহ কিছু পুষ্টি উপাদানের শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে।

যদিও গোলমরিচ একাই কোলেস্টেরল উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়—এমন প্রমাণ নেই, তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান পরিহার এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। মসলা খাদ্যতালিকায় উপকারী সংযোজন হতে পারে, তবে এগুলো কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়।